মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা আঞ্চলিক উত্তেজনার মুখে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছে বিশ্বের ২৫টি দেশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের (এমএফসি) এক যৌথ বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলো এই উদ্বেগ প্রকাশ করে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু এ কথা জানিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজে নিয়োজিত মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন বা এমএফসি হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর একটি আন্তর্জাতিক জোট। এই এমএফসির বিবৃতিতে বলা হয়, সশস্ত্র যুদ্ধের সময় সংঘাতের শিকার সাধারণ মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য পৌঁছে দিতে স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাংবাদিক হত্যা, গ্রেফতার ও আটকে রাখার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ফলে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা এবং তথ্য পাওয়ার অধিকার এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
বিবৃতিতে ইসরাইল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, তারা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এর ফলে সেখান থেকে স্বাধীনভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের সুযোগ পুরোপুরি সীমিত হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমের অবকাঠামো, ব্যবহৃত যানবাহন এবং চিহ্নিত প্রেস গাড়ির ওপর যেকোনো ধরণের হামলার তীব্র নিন্দা জানায় জোটটি।
পাশাপাশি ইরানে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ইন্টারনেটের ওপর কড়াকড়ি আরোপ নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়। তারা জানায়, সংঘটিত এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
যুদ্ধরত সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার এবং সাংবাদিকদের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতি প্রদানকারী দেশগুলো স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, সাংবাদিকদের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। পাশাপাশি আটক সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চিকিৎসা ও মর্যাদা দেয়ার দাবি জানানো হয়।
অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, ঘানা, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল, সিয়েরা লিওন, স্লোভাকিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেন এবং যুক্তরাজ্য যৌথভাবে এই বিবৃতিতে সই করেছে।



