গাজায় নজিরবিহীন বর্বরতা : সোচ্চার ইসরাইলি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

বিভিন্ন প্রতিবাদপত্রে সই করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা ইসরাইল সরকারের পরিচালিত অমানবিক তৎপরতা ও সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি
হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি |সংগৃহীত

দেশটির শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষক নিজেদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

ইসরাইলের দৈনিক জেরুজালেম পোস্ট সোমবার (২৪ আগস্ট) জানায়, বিভিন্ন প্রতিবাদপত্রে সই করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা ইসরাইল সরকারের পরিচালিত অমানবিক তৎপরতা ও সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

'দি ওলাম' নামক একটি গবেষণা ও বিজনেস-ইন্টেলিজেন্স সংস্থার ১৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। আটটি শীর্ষ স্থানীয় ইসরাইলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২,৮৪৪ জন অনুষদ সদস্যের ওপর পরিচালিত এই নিরীক্ষায় দেখা যায়, ১,৪৩৪ জন শিক্ষক (৫০.৪ শতাংশ) গাজা অভিযানে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডকে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে উল্লেখ করে গণ-আবেদনে সই করেছেন।

গবেষণাটিতে হাইফা টেকনিয়ন, জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট, ওপেন বিশ্ববিদ্যালয়, তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়, বেন-গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়, হাইফা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রচারিত রাজনৈতিক আবেদনগুলোর তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল শিক্ষক ডিরেক্টরির সাথে মিলিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট সইয়ের ৯৬.৯ শতাংশই এসেছে ২০২৫ সালের মে মাসে 'ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ' উদ্যোগের প্রকাশিত একটি আবেদন থেকে। 'ইসরাইলের একাডেমিক প্রধানদের প্রতি জরুরি আহ্বান' শীর্ষক সেই চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়, গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে ইসরাইল যে নারকীয় অমানবিকতা ঘটাচ্ছে, তা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। যুদ্ধ থামাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধানদের সম্পূর্ণ নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ প্রয়োগের তাগিদ দেওয়া হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষকদের এই অংশগ্রহণ কোনো নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কাজ নয়। নিবন্ধিতদের মধ্যে মাত্র ১৮ জন একাধিক আবেদনে সই করেছেন, বাকি বিশাল অংশই একক আবেদনে সই করে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংহতি জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানভেদে এই অংশগ্রহণে তারতম্য ছিল। টেকনিয়নের ৭৭ শতাংশ এবং হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭ শতাংশ শিক্ষক আবেদনে সই করেন। অন্যদিকে, বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ে এই হার ছিল ৩০ শতাংশ। মানবিক বিভাগের শিক্ষকেরা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের তুলনায় তিন থেকে সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি সাড়া দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিভাগের ৮২ শতাংশ, সমাজবিজ্ঞানের ৭০ শতাংশ, দর্শনের ৬৬ শতাংশ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ৫৯ শতাংশ শিক্ষক ইসরাইলের নীতির বিরুদ্ধে সই করেছেন।

দি ওলাম-এর প্রকাশক রন টরোসিয়ান বিষয়টিকে নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মূলধারার বাইরে গিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সামরিক অভিযানের যেভাবে অমানবিক দিকগুলো তুলে ধরেছেন, তা দাতাসংস্থা ও অভিভাবকদের নতুন করে ভাবাবে।