ইরান কাস্পিয়ান সাগরে দেশটির একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে এক নাবিককে হত্যা এবং আরেকজনকে আহত করার জন্য শনিবার (২৫ জুলাই) ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। একইসাথে এ ঘটনার জবাব দেয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কাস্পিয়ান সাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল বহনকারী জাহাজে দূরপাল্লার হামলার কথা জানানোর পরই এ অভিযোগ আনে ইরান। এতে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সংঘাত ক্রমেই আন্তর্জাতিক মাত্রা পাচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনা জানায়, শনিবার সকালে ওই হামলায় জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এক নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হন।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতে কখনোই হস্তক্ষেপ করেনি’।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলায় ‘খুবই শক্তিশালী সাফল্য’ অর্জন করেছে। এর মধ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজ এবং একটি যুদ্ধজাহাজও ছিল।
অন্যদিকে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানায়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এমন সব মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যেগুলো ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, এ ‘বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদ জানাতে শনিবার তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরনা জানায়, এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সাথে টেলিফোনে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ হামলার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘কঠোর জবাব’ দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ।
সূত্র: বাসস



