তাসনিম নিউজ এজেন্সির হিব্রু বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সূত্রে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হয়ে থাকতে পারেন বলে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পেছনে মূলত পাঁচটি কারণ বা প্রমাণ উল্লেখ করা হচ্ছে।
ভিডিও ও ছবির অনুপস্থিতি: নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে সর্বশেষ ভিডিও বা ছবি প্রকাশের পর প্রায় চার দিন পার হয়ে গেছে। এরপর থেকে তার বিষয়ে যা কিছু প্রকাশিত হয়েছে, তা ছিল কেবল লিখিত টেক্সট।
নিয়মিত প্রচারণায় ঘাটতি: সাধারণত প্রতিদিন অন্তত এক থেকে তিনটি ভিডিও প্রকাশিত হতো। কিন্তু গত চার দিনে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ না হওয়া এই সন্দেহকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার: কিছু হিব্রু সূত্র জানিয়েছে, গত শনিবার রাতে নেতানিয়াহুর বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় অস্বাভাবিকভাবে কঠোর করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘সুইসাইড ড্রোন’ হামলা মোকাবিলা করার জন্য।
গুরুত্বপূর্ণ সফর বাতিল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা কুশনার এবং বিশেষ প্রতিনিধি হুইটেকারের কালকের নির্ধারিত ইসরাইল সফর বাতিল করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নেতানিয়াহুর এই রহস্যজনক পরিস্থিতির কারণেই সফরটি স্থগিত হলো।
এলিসি প্রাসাদের অস্পষ্টতা: ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং নেতানিয়াহুর মধ্যকার ফোনালাপ নিয়ে এলিসি প্রাসাদ যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাতে আলোচনার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। শুধুমাত্র আলাপের বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়েছে, যা অনেকের কাছেই সন্দেহজনক।
এই বিষয়গুলো বর্তমানে কেবলই জল্পনা-কল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সূত্র থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি বা সরাসরি অস্বীকারও করা হয়নি।
এদিকে ইসরাইলি বা হিব্রু সংবাদমাধ্যম থেকে গত ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ‘নিশ্চিত সংবাদ’ পাওয়া যায়নি।
তবে পূর্বের তথ্যের ধারাবাহিকতায় এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় আসে। নিরাপত্তা জোরদার ও ‘বাংকার’ কেন্দ্রিক কার্যক্রম,
হিব্রু ভাষার গণমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’ ও ‘চ্যানেল ১২’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর দিক থেকে আসা ড্রোন হামলার হুমকির কারণে নেতানিয়াহু এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে কায়সারিয়াতে তার বাসভবনে ড্রোন হামলার চেষ্টার পর থেকে তার বেশিভাগ কার্যক্রম ভিডিও কনফারেন্স বা সুরক্ষিত বাঙ্কারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিডিও ফুটেজ না আসার কারণ হতে পারে নিরাপত্তা প্রোটোকল। তবে বিরোধী দলীয় সূত্রগুলো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু অংশ এটিকে ‘ইচ্ছাকৃত গোপনীয়তা’ হিসেবে দেখছে, যা নিহত বা আহত হওয়ার খবরকে আরো আলোচনায় নিয়ে আনছে।



