গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৩২

শনিবার গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিভাগই নারী ও শিশু। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, আশ্রয়কেন্দ্র এবং পুলিশ স্টেশন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত
গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজায় শনিবার ইসরাইলি বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা। অপরদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চলতি মাসের শুরুতে দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করলেও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এ সময় ইসরাইল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

সর্বশেষ এই রক্তপাতের ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন ইসরাইল রোববার গাজা ও মিসরের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ ক্রসিং ‘সীমিত সংখ্যক মানুষের চলাচলের’ জন্য পুনরায় খুলে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানায়, ‘আজ ভোর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের বেশিভাগই নারী ও শিশু।’ এর আগে নিহতের সংখ্যা ২৮ বলা হয়েছিল।

সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র এবং একটি পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।’

নিহত পরিবারের এক সদস্য সামের আল-আতবাশ বলেন, ‘তিনটি মেয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় মারা গেছে। আমরা তাদের লাশ রাস্তায় পেয়েছি।’

গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্রে একটি পুলিশ স্টেশনেও হামলা চালানো হয়।

গাজার সাধারণ পুলিশ অধিদফতর জানায়, ওই হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। তবে মাহমুদ বাসসাল বলেন, নিহতদের মধ্যে চার নারী পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

এএফপির এক সাংবাদিক জানান, ধ্বংসস্তূপে পরিণত ভবন থেকে লাশ উদ্ধারে অন্তত এক ডজন উদ্ধারকর্মী ছুটে যান।

আরেকটি ইসরাইলি হামলা দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে আঘাত হানে। সেখানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন।

হাজারো ঘনভাবে স্থাপিত তাঁবুর ওপর দিয়ে ধোঁয়ার বড় বড় কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। এ হামলায় হতাহতের সংখ্যা তখনো জানা যায়নি।

যদিও ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির পর প্রায় প্রতিদিনই গাজায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, শনিবারের হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে একটি সুড়ঙ্গ থেকে আটজন ফিলিস্তিনি যোদ্ধা বেরিয়ে আসার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওই ঘটনা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য সুহাইল আল-হিন্দি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, ‘আজ যা ঘটেছে, তা একটি পূর্ণাঙ্গ অপরাধ। এটি এমন এক অপরাধী শত্রুর কাজ, যারা কোনো চুক্তি মানে না এবং কোনো প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখায় না।’

হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৫০৯ জন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে, একই সময়ে গাজায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র হামলায় তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন।

সূত্র : বাসস