২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ৩০০ দিনে ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় কমপক্ষে ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাতিসঙ্ঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, সহিংসতা ও মানবিক পরিস্থিতি শিশুদের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদের বলেন, ‘যে যুদ্ধবিরতিতে প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত হচ্ছে, তা শিশুদের জন্য একটি ব্যর্থ যুদ্ধবিরতি। আরো শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।’
তিনি আরো বলেন, ‘গাজার শিশুরা এখনো সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় আছে, যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেয়া হয়েছিল।’
ইউনিসেফ জানিয়েছে, অনেক পরিবার গাজার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, ধ্বংসস্তূপ এবং জমে থাকা বর্জ্যের মধ্যে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করছে।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, গাজার শিশুরা তীব্র অপুষ্টি, রোগের প্রাদুর্ভাব, বিশুদ্ধ পানির সীমিত সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন পরিকাঠামোসহ ক্রমবর্ধমান মানবিক সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছে।
সংস্থাটি বলেছে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য পরবর্তী পর্যায়ের রূপরেখা দিয়ে সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলো পরিস্থিতির উন্নতির আশা জাগিয়েছে। ঘোষণাগুলোর মধ্যে হামলা বন্ধ করা এবং মানবিক ত্রাণ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বেইগবেদের বলেন, ‘এটি নতুন আশা এবং অবশেষে শিশুদের হত্যা বন্ধ করার একটি সুযোগ এনে দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শিশুরা আগেও প্রতিশ্রুতি শুনেছে। এবার চুক্তিগুলোকে অবশ্যই কার্যকর করতে হবে।’
ইউনিসেফ সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার আইনের অধীনে থাকা বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যার মধ্যে শিশুদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, খাদ্য ও নিরাপদ পানির মতো অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলোর সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত।
সংস্থাটি কর্তৃপক্ষকে বিপদগ্রস্ত শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ, দ্রুত ও অবাধে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার অনুমতি দিতে ও তা সহজতর করতেও আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি



