ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী ২৯ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফ্লোরিডায় বৈঠক করবেন। এ সময় তিনি ইরানকে মোকাবেলা করার জন্য ট্রাম্পের কাছে একটি নতুন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সম্প্রচারমাধ্যমটি এনবিসি নিউজের বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করবেন নেতানিয়াহু।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তেল আবিব দাবি করেছে যে ইরান পূর্ববর্তী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোর পুনর্বাসন ত্বরান্বিত করছে। একইসাথে তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্যও কাজ করছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, নেতানিয়াহুর নতুন পরিকল্পনার অধীনে থাকা বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরাইলের একতরফা হামলা, সীমিত মার্কিন সমর্থন প্রাপ্তি, যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা, ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি মার্কিন হস্তক্ষেপ।
এতে আরো বলা হয়েছে, তেল আবিবের অনুমান, নিয়ন্ত্রণ না করা হলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন প্রতি মাসে তিন হাজারে বৃদ্ধি পেতে পারে।
এছাড়া ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বিশেষ করে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের পুনর্বাসনের পাশাপাশি এই অঞ্চলে তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।
প্রতিবেদনে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে যেকোনো মতবিরোধ বা বিঘ্ন ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপের জন্য ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন প্রদানের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে।
গত ১৩ জুন ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি সিনিয়র সামরিক কমান্ডার ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে আকস্মিক আক্রমণ চালায় ইসরাইল।
তেহরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ১২ দিনের ওই যুদ্ধের শেষের দিকে ইসরাইলের সাথে মিলে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। পরে ২৪ জুন মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় যুদ্ধবিরতির কার্যকর হয়।
সূত্র : আনাদোলু অ্যাজেন্সি



