ইসরাইল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জানিয়েছে, তারা লেবাননের সরকারের সাথে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যে বৈঠক করতে যাচ্ছে, সেখানে হিজবুল্লাহর সাথে কোনো যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবে না।
ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে অনুষ্ঠেয় ওই বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার জানান, লেবানন সরকারের সাথে ইসরাইলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে দেশটি তাদের সাথে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরাইল হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং যা দুই দেশের মধ্যে শান্তির পথে প্রধান বাধা।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলার পর হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরাইলে রকেট হামলার জবাবে ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।
হিজবুল্লাহ ইরান-সমর্থিত একটি শিয়া মুসলিম সংগঠন।
হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতি না হলে, এই বৈঠকগুলোর মূল বিষয় হবে- লেবানন সরকার কিভাবে হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে, সেই বিষয়ে ইসরাইলের প্রত্যাশা। বহু বছর ধরে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেলেও সম্প্রতি তারা কিছুটা কঠোর অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করছে।
এদিকে ইসরাইল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে এবং আজ শনিবার ইসলামাবাদে এই বিষয়ে যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা, সেই চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের এই সঙ্ঘাতে ইতোমধ্যে এক হাজার ৯৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গত বুধবার ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন, ওই একদিনেই ইসরাইলের হামলায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সূত্র: বাসস



