ট্রাম্পের ইঙ্গিত পেলেই গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বহিষ্কার করবে ইসরাইল!

ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক গাজা উপত্যকা থেকে বহিষ্কার করার পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবুজ সঙ্কেত দিলেই দখলদার ইসরাইল সম্ভাব্য সব উপায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী ইসরাইল কাটজ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে শরণার্থী হওয়া গাজার একদল ফিলিস্তিনি
ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে শরণার্থী হওয়া গাজার একদল ফিলিস্তিনি |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক গাজা উপত্যকা থেকে বহিষ্কার করার পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবুজ সঙ্কেত দিলেই দখলদার ইসরাইল সম্ভাব্য সব উপায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী ইসরাইল কাটজ।

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট এবং দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন যে, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের গণহারে বহিষ্কার করাই এখনো ‘একমাত্র সমাধান’।

কাটজ বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত এই অভিবাসন ছাড়া গাজার জন্য কোনো প্রকৃত সমাধান নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাদের (ফিলিস্তিনিদের) বের করে দেয়ার জন্য আমরা সংঘবদ্ধ ও প্রস্তুত—সমুদ্রপথে, আকাশপথে, যেকোনো উপায়ে।’

তিনি কিছু অনির্দিষ্ট ‘জরিপের’ উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন যে, গাজায় বসবাসরত ৮০ শতাংশ ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ড ছেড়ে যেতে চান।

যুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণ করতে অন্যান্য দেশকে রাজি করানোর জন্য ট্রাম্পের অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, ‘যে বিষয়টি পরিকল্পনাটিকে বিলম্বিত করছে তা হলো, যেসব দেশ তাদের গ্রহণ করতে ইচ্ছুক, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চায়। যে দেশই তাদের গ্রহণ করতে রাজি, তারা আমেরিকার সমর্থন চায়।’

কাটজ বলেন, ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার এই পরিকল্পনা এখনো আলোচনায় রয়েছে এবং আরব দেশগুলোর চাপের কারণে ট্রাম্প এটি কেবল ‘স্থগিত’ রেখেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়নি। এখনো এটি নিয়ে সব সময় আলোচনা হচ্ছে এবং আমি মনে করি, সবার কল্যাণের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।’

কবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী বলেন, যখন এটি স্পষ্ট হবে যে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস গাজা নিয়ে মার্কিন পরিকল্পনার অধীনে তার অঙ্গীকারগুলো পূরণ করছে না।

তিনি আরো বলেন, ‘তখন আমরা সামরিক, ভূখণ্ডগত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবুজ সঙ্কেত পাব।’

এর আগে জাতিসঙ্ঘের এক বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা আলবানিজে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক ‘জাতিগত নিধন’ চালানোর পরিকল্পনা করছে।

দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে ভূখণ্ডটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আইন বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনাকে জেনেভা কনভেনশনের আলোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

ফিলিস্তিন ও মিসরসহ বিভিন্ন পক্ষের তীব্র বিরোধিতার মুখে পরে ট্রাম্প তার ওই ধারণা থেকে সরে আসেন।

মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেছেন, মিসরের সাথে গাজার সীমান্ত এলাকা সফর করার পর তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, ইসরাইল গাজায় জাতিগত নিধনের পরিকল্পনা করছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এখন কাটজ নিশ্চিত করেছেন যে এটাই লক্ষ্য। আমাদের এই অপরাধে সহযোগিতা বন্ধ করতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ফেলো এইচ এ হেলিয়ার বলেছেন, ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী ‘সম্পূর্ণ ও নির্লজ্জভাবে স্বীকার করছেন’ যে, গাজায় ইসরাইলের সরকারি নীতি হলো ‘জাতিগত নিধন’।

তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু তারপরও কোনোভাবে আমাদের আশা করা হয় যে, যারা বলে এটি জাতিগত নিধন নয়, তাদের কথাকে আমরা গুরুত্বের সাথে নেব।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে দখলদার ও সন্ত্রাসী ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ক্রমবর্ধমান নৃশংসতার প্রতিক্রিয়ায় হামাস ইসরাইলি দখলদার সত্তার বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক অভিযান চালানোর পর ইসরাইল গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে একটি গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু করে।

দুই বছর পর হামাসকে নির্মূল করা এবং সব বন্দীকে মুক্ত করার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরাইল গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়।

তবে এরপরও এই অপরাধী দখলদার কর্তৃপক্ষ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত প্রায় তিন বছরে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে এসব হামলায় কমপক্ষে ৭৩ হাজার ৪৭০ জন নিহত এবং আরো এক লাখ ৭৪ হাজার ৫৪০ জন আহত হয়েছেন।

সূত্র : পার্সটুডে