বিবিসির বিশ্লেষণ

আলোচনা সফল না হওয়ায় ট্রাম্পের সামনে কঠিন পরিস্থিতি

কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে ইরানের হাতে এখনো যথেষ্ট দর কষাকষির সুযোগ রয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সাথে আলোচনা ভেঙে যাওয়াকে সুসংবাদ এবং দুঃসংবাদ উভয়ই বলেছেন।

বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেটের বলছেন, এই আলোচনা সেশন কতক্ষণ ধরে চলেছে, সেটি তাৎপর্যপূর্ণ এবং আশ্চর্যজনক। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে যে কোনো চুক্তি হয়নি, এটা আশ্চর্যজনক নয়।

তিনি বিশ্লেষণ করছেন, আমেরিকানরা এই ধারণা নিয়ে পাকিস্তানে এসেছিল যে যুদ্ধে ইরান এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তাদের সাথে দ্রুত আপস করা সম্ভব হবে।

জেডি ভ্যান্স বললেন, ‘তারা (ইরান) আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি হয়নি।’

লিজ ডুসেট মনে করেন, ইরানেরও নিজস্ব সীমা রয়েছে, অর্থাৎ যেসব বিষয়ে তারা ছাড় দিতে পারবে না বা দেবে না।

তারা শক্তিশালী অবস্থানে আছে- এমন বিশ্বাস নিয়ে দেশটি ইসলামাবাদে আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও, দেশটি এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম এবং ইচ্ছুক।

বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে ইরানের হাতে এখনো যথেষ্ট দর কষাকষির সুযোগ রয়েছে।

এক দশক আগে তেহরান ও ওয়াশিংটন শেষবার যখন একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল, তখন তাতে ১৮ মাস ধরে নানা অগ্রগতি ও অচলাবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

লিজ ডুসেটের মতে, ট্রাম্প এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হবেন- হয় পরিস্থিতি আরো খারাপ করতে পারেন তিনি, অথবা আলোচনায় ফিরে এসে নতুন করে পরিস্থিতিকে মূল্যায়ন করা।