ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও আটকে থাকা অর্ধেক পণবন্দীকে মুক্তি দেয়ার নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইসরাইল। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুই ইসরাইলি কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে একটি সূত্র পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার জন্য সব ইসরাইলি পণবন্দীকে মুক্তি দিতে হবে।
গত সপ্তাহে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত গাজা শহরের নিয়ন্ত্রণ দখলের জন্য ইসরাইল নতুন হামলার পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা নতুন করে গতি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা আবারো শুরুর জন্য হামাস ও ইসরাইলকে চাপ দিতে শুরু করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর ও কাতার।
হামাসের একজন কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাবে ১০ জন জীবিত ইসরাইলি পণবন্দী ও ১৮টি লাশের বিনিময়ে ইসরাইলে কারাবন্দী ২০০ জন ফিলিস্তিনি ও অনির্দিষ্ট সংখ্যক নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বন্দীকে মুক্তি দেয়ার বিষয়টি রয়েছে।
মিসরের দুই নিরাপত্তা সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র দুটি বলেছে, হামাস আরো কয়েক হাজার বন্দীর মুক্তি চেয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি বিস্তৃত চুক্তির পথ’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রস্তাবে ইসরাইলি বাহিনীর আংশিক প্রত্যাহারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে গাজার ৭৫ শতাংশ এলাকা ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবে আরো মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশের অনুমতির কথা বলা হয়েছে, যেখানে ২২ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
এর আগে, গত জুলাইয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সর্বশেষ পরোক্ষ আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। ওই আলোচনার ব্যর্থতার জন্য উভয়পক্ষ একে অপরকে দায়ী করে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের প্রস্তাবিত রূপরেখা ইসরাইল আগে মেনে নিলেও পরে কিছু বিষয় নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই আলোচনা অচল হয়ে পড়ে।
সূত্র : রয়টার্স



