তুরস্কের সাথে আগামী দিনে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ইসরাইলের প্রবাসবিষয়ক মন্ত্রী আমিকাই চিকলি। তাঁর দাবি, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ বাঁধাকে এখন আর কোনো অসম্ভব ঘটনা বলা যায় না। জেরুজালেমে এক সম্মেলনে তিনি বলেন, ভূমধ্যসাগরে বা সমুদ্রে ইসরাইল ও তুর্কি বাহিনীর এই মুখোমুখি সংঘর্ষ 'এমনকি আগামীকাল সকালেও' ঘটে যেতে পারে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম সাবাহ্ গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইসরাইলি মন্ত্রীর বুধবারের এই বক্তব্যের খবরটি প্রকাশ করে।
গত দুই দশকে তুরস্ক নিজস্ব প্রতিরক্ষাশিল্পকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে যে তারা এখন গভীর সমুদ্রেও দাপটের সাথে কাজ করতে পারে। এতে করে ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্যে বড় বদল এসেছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগর, কৃষ্ণসাগর এবং এজিয়ান সাগরে বাণিজ্য পথ পাহারা দেওয়া আর প্রভাব বজায় রাখায় তুর্কি নৌবাহিনী বড় ভূমিকা রাখছে। ২০১১ সালে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম যুদ্ধজাহাজ 'টিসিজি হেইবেলিয়াদা' বহরে যুক্ত করার পর তুরস্ক এখন সাবমেরিন ও আধুনিক ধ্বংসাত্মক জাহাজ বানাচ্ছে। এমনকি 'এডভেন্ট' নামের নিজস্ব যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি আর 'পিরি রেইস'-এর মতো আধুনিক সাবমেরিন তাদের নৌশক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইসরাইলি সংবাদপত্র 'ইসরাইল হায়োম' জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অবস্থান আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ায় তুরস্কের প্রভাব বাড়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এটি এখন ইসরাইলি নীতি নির্ধারকদের মাথাব্যথার বড় কারণ। ইসরাইলি বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের সমর্থনে গড়ে ওঠা এই নতুন আঞ্চলিক শক্তির সাথে টেক্কা দিতে ইসরাইলকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল বদলাতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক যন্ত্রপাতির নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে এবং নতুন মিত্র খুঁজতে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
সিরিয়া থেকে শুরু করে পূর্ব ভূমধ্যসাগর—সব জায়গায় তুরস্কের এই প্রভাব বিস্তার ইসরাইলকে ভাবিয়ে তুলেছে। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক চরম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তুরস্ক ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।



