আইআরজিসির হুঁশিয়ারি:

নতুন যুদ্ধ হলে আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করবে ইরান

ইরানের সামরিক অস্ত্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত উন্নয়ন জোরদার করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা শিল্পে তৈরি হচ্ছে আগের চেয়ে নির্ভুল, ধ্বংসাত্মক ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রশস্ত্র।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের জুলফিকার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী
ইরানের জুলফিকার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী |সংগৃহীত

নতুন যুদ্ধের সূচনা হলে ইরান এর আগের যুদ্ধগুলোর তুলনায় আরও বহু গুণ বেশি ধ্বংসাত্মক ও অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি।

ইরানের ইংরেজি ভাষার বার্তা সংস্থা প্রেসটিভি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে এই কড়া বার্তা দেন। ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনব্যাপী এবং গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ৪০ দিনব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।

মোহেব্বি জানান, ইরানের সামরিক অস্ত্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত উন্নয়ন জোরদার করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা শিল্পে তৈরি হচ্ছে আগের চেয়ে নির্ভুল, ধ্বংসাত্মক ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রশস্ত্র।

আইআরজিসির মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, "যদি নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হয়, তবে আমাদের ব্যবহৃত অস্ত্রাগার আগের যুদ্ধের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেবে। অস্ত্রের ক্ষেত্রে এই বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে ওয়ারহেডের নতুন প্রজন্ম তৈরি, নিখুঁতভাবে আঘাত হানার প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা বৃদ্ধি কিংবা অন্যান্য আধুনিক ক্ষেত্রগুলোতে।"

ইরান সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন ও উন্নয়ন কখনোই স্থগিত করেনি উল্লেখ করে মোহেব্বি বলেন, "আমরা প্রতিদিন সামনে দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এই ক্ষেত্রে যেকোনো প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি মোকাবেলার সম্ভাবনা তৈরি রাখা হয়েছে।"

জুলাই মাসের এক বক্তব্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবনে রেজা জানিয়েছিলেন যে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে উৎপাদন লাইনগুলো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে সচল রয়েছে।

ইয়েমেন প্রসঙ্গে আলাপের একপর্যায়ে সৌদি আরবের সামরিক আগ্রাসন রুখে দিতে আনসারুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলনের দক্ষতার প্রশংসা করেন মোহেব্বি। তিনি মন্তব্য করেন, ইসরায়েল দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় লড়াই চালিয়ে গিয়েও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধা হামাসের কোনো মারাত্মক ক্ষতি করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেদিক থেকে ইসরায়েলের চেয়ে সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকা সৌদি আরবের পক্ষে আনসারুল্লাহর ওপর জয় পাওয়া অসম্ভব।

মোহেব্বি সতর্ক করে বলেন, "সৌদি আরব কখনোই ইয়েমেন বা আনসারুল্লাহকে দমাতে পারবে না এবং তাদের পাল্টা হামলা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারবে না। সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও দেখা গেছে, রিয়াদ যত বেশি আক্রমণ চালিয়েছে, ঠিক ততটাই শক্তিশালী প্রতিরোধ ও হামলার মুখে পড়েছে।" আনসারুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ইয়েমেনি প্রতিরোধ সংগ্রাম আরও শক্তিশালী হয়ে অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।