মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইল লেবাননে ‘কোনো পরিণতি ছাড়াই’ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বার্ড কলেজের মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জিয়াদ আবু রিশ।
আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বেশির ভাগ পর্যবেক্ষকের ধারণা, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননের আরো এলাকা দখল এবং হিজবুল্লাহ ও লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা জোরদার করতে চান।
শনিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির পর থেকে চলে আসা ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন আবু রিশ। তার দাবি, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলকে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে কার্যত কোনো জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়নি।
আবু রিশের ভাষ্য, ওই যুদ্ধবিরতি ছিল ‘কেবল নামেই’। তার মতে, ১৯ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সীমিত সময়েই এটি কার্যকর ছিল। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধে চাপ দেয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ইসরাইলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পৃথক আলোচনায় লেবানন সরকারকে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তাতে বৈরুতকে হামলা থেকে রেহাই দেয়ার বিনিময়ে দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলা ও দখলদারিত্ব সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল।
আবু রিশ বলেন, এর ফলে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দারা এখনো ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও হামলার মধ্যে বসবাস করছেন। যুদ্ধবিরতির সময় ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতেই দক্ষিণ লেবাননের অধিকাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে রয়েছে বাড়িঘর, হাসপাতাল, স্কুল, দুর্গ ও কৃষিজমি।
সূত্র : আল জাজিরা



