লেবাননের অন্যতম বৃহৎ শহর টায়ার ও আশপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়ার পর সেখানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বুধবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ওই অঞ্চলে হিজবুল্লাহর একটি সদর দপ্তর লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত এক মানচিত্রে টায়ার শহরের বেশিরভাগ অংশ এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে শুরু হয় বিমান হামলা। শহরটি ইসরাইল সীমান্তের কাছে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত।
ইসরাইলি বাহিনী আরো জানায়, লেবাননের জাহরানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলকে “যুদ্ধক্ষেত্র” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য উত্তর দিকে সরে যেতে বলা হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, “হিজবুল্লাহ বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় আইডিএফ কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।”
এদিকে, লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকায় এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, টায়ার জেলার দেইর আমাস এলাকায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের ব্রাইকা শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় দুটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া দেইর কানুন এন-নাহর, শ্রীফা ও তোরা এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। ঈদুল আজহার উৎসব চলাকালে এসব হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের জাওতার আল-শারকিয়াহ এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর সাথে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। সংগঠনটি জানায়, তারা রকেট, কামান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং একাধিক সামরিক যান লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলে কয়েকটি বিস্ফোরক ড্রোন আঘাত হেনেছে।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলায় দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার রাতে বলেন, দক্ষিণ লেবাননে একটি “নিরাপত্তা অঞ্চল” গড়ে তুলতে ইসরাইলি স্থলবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে ৩ হাজার ২০০ জনের বেশি নিহত এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
সূত্র : আল জাজিরা



