ইরান ও ওমান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আবারো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে।
সোমবার মার্কিন দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী সব জাহাজ ইরান নিয়ন্ত্রিত এবং দেশটির উপকূলের নিকটবর্তী নৌপথ ব্যবহার করে চলাচল করবে। অন্যদিকে, উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য জাহাজগুলো ওমানের সীমান্তসংলগ্ন নৌপথ বেছে নেবে।
ইরানের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজ চলাচলের জন্য সরাসরি কোনো 'টোল' বা পথকর নেওয়া হবে না। তবে পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলা, পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা রক্ষা এবং পরিচালনা কর্মীদের খরচের বিষয়টি মেটাতে একটি নির্দিষ্ট 'সার্ভিস ফি' বা সেবা মাশুল যুক্ত রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় উঠে আসা মোট আয় ইরান ও ওমান নিজেদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে নেবে।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের এই দাবি বা বিবরণ 'সঠিক নয়' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রণালী দিয়ে সাময়িকভাবে কোনো নৌপথ চালু করা হলে তার জন্য ইরানের কোনো অনুমোদনের দরকার পড়বে না, কিংবা এর জন্য কোনো ফি বা চার্জও দিতে হবে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পেন্টাগনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার বিষয়টিকে বেশ সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কার্যত ইরানকে অহেতুক ছাড় দেয়া বা সুবিধা করে দেয়া হতে পারে।
অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, খোদ ইরানের অনেক কর্মকর্তা এই সমঝোতার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের সংশয়, নতুন এই ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত ঠিকভাবে কাজ করবে কি না, কিংবা এটি যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে হতে যাওয়া আবারো হামলা নস্যাৎ করতে আদৌ সক্ষম হবে কি না।



