ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা শনিবার জানিয়েছে, ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরান এখন পুরো এশিয়ার সংবাদমাধ্যমের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত প্রতিটি অঞ্চলের সংবাদপত্র, বার্তা সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। লাখ লাখ মানুষের আবেগঘন উপস্থিতি, বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণ এবং এর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তেহরানের এই শোক অনুষ্ঠান আজ এশিয়ার খবরের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে। মার্কিন-ইহুদিবাদী শত্রুদের নৃশংস ও সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হওয়া এই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেশ-বিদেশের মানুষের এই ঢলকে সংবাদমাধ্যমগুলো দেখছে শত্রুদের বিরুদ্ধে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শক্তির এক মহা প্রদর্শন হিসেবে।
হংকংয়ের ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘তেহরানের ইমাম খামেনি মোসাল্লায় লাখ লাখ মানুষের সমাগমের মধ্য দিয়ে এই বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে, যা ছয় দিন ধরে চলবে।’
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তারা জানায়, তিন দিনের এই আয়োজনে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।
‘এশিয়া বিজনেস ডেইলি’ জানিয়েছে, তেহরানের পর শহীদ নেতার পবিত্র লাশ কোম নগরী হয়ে মাশহাদের ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে দাফন করা হবে।
কোরিয়ার ‘সিউল ইকোনমিক ডেইলি’ এই অনুষ্ঠানকে ১৯৮৯ সালে ইমাম খোমিনির জানাজার পর ইরানের ‘অন্যতম বৃহত্তম জনসমাবেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা জানায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভসহ হামাস, হিজবুল্লাহ ও আফগান তালেবান সরকারের প্রতিনিধিদল এই শোকানুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।
ভারতের ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার পর এই আয়োজনের মাধ্যমে ইরান নিজের ‘ঐক্য ও প্রতিরোধ ক্ষমতা’ বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছে।
মালয়েশিয়ার ‘দ্য এজ’ জানিয়েছে, কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত, খাবার ও বাসস্থানের ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের ‘জিও নিউজ’ এবং ‘চ্যানেল নিউজ এশিয়া’ জানিয়েছে, এই শোকগাথা শুধু আবেগ নয়, বরং শত্রুদের বিরুদ্ধে ইরানের কর্তৃত্বের প্রতীক। ইরানের শহীদ নেতার এই ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক নতুন মোড় হিসেবে দেখছে পুরো এশিয়া।



