যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ড্রোনের ‘বৈধ নিশানা’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এই খবর জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তারা বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর একটি সমাবেশ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতামূলক আগ্রাসন’ এবং ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘনের জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইরানি বাহিনী স্পষ্ট করে বলেছে, ‘অপরাধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বারবার এবং নির্লজ্জভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার পরিণতি হবে এই অঞ্চলের সব আমেরিকান ঘাঁটি আমাদের ড্রোনের বৈধ নিশানা বনে যাবে।'
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বাহরাইনের সালমান বন্দর, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুধবার বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। এই হামলার সময় বাহরাইনেও বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীও ইরানের ওপর পাল্টা নতুন দফায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ‘তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালিয়েছে। সব মিলিয়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।



