গাজামুখী নৌবহরের আটক ২ কর্মীকে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরাইল

গাজামুখী একটি নৌবহর থেকে আটক দুই বিদেশী কর্মীকে রোববার (১০ মে) ফেরত পাঠিয়েছে ইসরাইল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

গাজামুখী একটি নৌবহর থেকে আটক দুই বিদেশী কর্মীকে রোববার (১০ মে) ফেরত পাঠিয়েছে ইসরাইল। তাদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি অধিকার সংস্থা এ ঘটনাকে ‘বেসামরিক অভিযানের ওপর শাস্তিমূলক হামলা’ বলে অভিহিত করেছে।

স্পেনের নাগরিক ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত সাইফ আবু কেশেক ও ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলা ওই নৌবহরের যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন। ৩০ এপ্রিল গ্রিস উপকূলের আন্তর্জাতিক পানিসীমায় ইসরাইলি নৌবাহিনী বহরটি আটক করে।

দু’জনকে ইসরাইলি বাহিনী আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরাইলে নিয়ে যায়। অন্যদের গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ‘উসকানিমূলক বহরের সদস্য সাইফ আবু কেশেক ও থিয়াগো আভিলাকে তদন্ত শেষে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

তারা আরো জানায়, গাজার ওপর আরোপিত অবরোধে ‘কোনো ধরনের লঙ্ঘন’ অনুমোদন করা হবে না।

স্পেন, ব্রাজিল ও জাতিসঙ্ঘ তাদের দ্রুত মুক্তির আহ্বান জানায়।

বুধবার একটি ইসরাইলি আদালত তাদের আটক আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দেয়।

মুক্তির পর তাদের পক্ষে কাজ করা অধিকার সংগঠন আদালাহ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আন্তর্জাতিক পানিসীমা থেকে অপহরণ, সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় বেআইনিভাবে আটক ও তাদের সাথে করা দুর্ব্যবহার- সব মিলিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ছিল একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক অভিযানের ওপর শাস্তিমূলক হামলা।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘কর্মী ও মানবাধিকার রক্ষকদের বিরুদ্ধে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ ব্যবহার করা ফিলিস্তিনিদের প্রতি বৈশ্বিক সংহতি দমনের অগ্রহণযোগ্য চেষ্টা।’

নৌবহরটি ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে যাত্রা শুরু করে। এর লক্ষ্য ছিল গাজার ওপর ইসরাইলের অবরোধ ভেঙে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া।

গত বছর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রথম যাত্রাও মিসর ও গাজার উপকূলে ইসরাইলি বাহিনী আটক করেছিল। ২০০৭ সাল থেকে গাজার সব প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরাইল। তখন থেকেই অঞ্চলটি অবরুদ্ধ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে অঞ্চলটিতে প্রয়োজনীয় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কিছু সময় ইসরাইল সম্পূর্ণভাবে সহায়তা বন্ধও রেখেছে।

সূত্র: বাসস