দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ, উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন হামলার শিকার

দোহায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শব্দ শোনা গেছে, এবং কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন হামলার শিকার হচ্ছে, যা অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

আজ সোমবার কাতারের রাজধানী দোহায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন হামলার শিকার হচ্ছে এবং ইরান এই অঞ্চল জুড়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে যাচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ব্যাপক প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করার পর থেকে দোহা ইরানি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ জানিয়েছে, তাদের বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।

এদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে আসা দু’টি ড্রোন প্রতিহত এবং ধ্বংস করা হয়েছে।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা আজ সোমবার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে।

কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, গতকাল রোববার উপসাগরীয় এই দেশটি সাতটি মিসাইল ও পাঁচটি ড্রোনের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপে ইরানের ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গতকাল রোববার জানিয়েছে, ইরান সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোয় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় তারা সৌদি আরব থেকে তাদের দূতাবাসের কিছু কর্মীকে সৌদি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ভ্রমণ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জরুরি দায়িত্বে নেই- এমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মচারীদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে সৌদি রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন দূতাবাসেও ড্রোনের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করার পর তেহরানের প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো অনেকটাই ভুগছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি কোনো হামলা চালানো হয় বা ইরানের ওপর আক্রমণ হয়, তাহলে তেহরান প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।

সূত্র : বাসস