গাজার জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা ট্রাম্পের

গাজায় যুদ্ধ অবসানের দ্বিতীয় ধাপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, যার অধীনে একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা করবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি গাজায় যুদ্ধ অবসানে মার্কিন-সমর্থিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন।

পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এটি ঘোষণা করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের যে বোর্ড অব পিস গঠিত হয়েছে। এই বোর্ডের সদস্যদের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি এটি যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে গঠিত সবচেয়ে মহান ও মর্যাদাপূর্ণ বোর্ড।’

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য সম্প্রতি ১৫ সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি ‘টেকনোক্র্যাট কমিটি’ গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এই কমিটি মূলত ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে কাজ করবে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে সেখানে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে।

হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বল এখন মধ্যস্থতাকারী, যুক্তরাষ্ট্রের গ্যারান্টার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোর্টে। এই কমিটিকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব এখন তাদের।’

গত ১০ অক্টোবর মার্কিন-সমর্থিত এই শান্তি পরিকল্পনা কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে হামাসের হাতে থাকা পণবন্দীদের মুক্তি এবং ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে লড়াইয়ের অবসান ঘটে।

বর্তমানে এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ চললেও ত্রাণ সহায়তা ও সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে সংশয় কাটছে না।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ৪৫১ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের কাছে অমীমাংসিত প্রধান বিষয় হলো- গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। শান্তি পরিকল্পনায় এর উল্লেখ থাকলেও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, হামাস এখনো প্রকাশ্যে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি, যা ইসরাইলের পক্ষ থেকে একটি অলঙ্ঘনীয় শর্ত।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার জানান, হামাস তাদের প্রতিশ্রুতি পূর্ণাঙ্গভাবে রক্ষা করবে বলেই ওয়াশিংটন আশা করে।

ট্রাম্প তার পোস্টে গাজার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই নেতারা একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি আরো জানান, মিসর, তুরস্ক ও কাতারের সহযোগিতায় হামাসের সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে সকল অস্ত্র সমর্পণ এবং প্রতিটি সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা হবে।

সূত্র : বাসস