ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একইসাথে ইসরেইলি বাহিনী গাজা শহরের আরো ভেতরে প্রবেশ করছে। শহরটি দখল ও প্রায় এক মিলিয়ন মানুষকে জোরপূর্বক উৎখাত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সেখানে অভিযান চালাচ্ছে তারা।
শনিবার (২৩ আগস্ট) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
দিনজুড়ে মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে অন্তত ২২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। এর মধ্যে খান ইউনিসের দক্ষিণ-পূর্বে একটি বিতরণ কেন্দ্রের কাছে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে একজন নিহত হন। এছাড়া ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত নেটজারিম করিডরের কাছে সাহায্য নিতে গিয়ে আরো একজন বেসামরিক নাগরিক গুলিতে মারা যান।
এদিকে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ শনিবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টি ও অনাহারে দুই শিশুসহ আরো আটজন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে প্রায় দুই বছর আগে গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট নিহতের সংখ্যা ২৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১৪টিই শিশু বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ।
শনিবার আল জাজিরা অ্যারাবিক যে ফুটেজ পেয়েছে তাতে দেখা গেছে, ইসরাইলি ট্যাংক গাজা শহরের সাবরা এলাকায় প্রবেশ করছে। এটি ইসরাইলের সামরিক স্থল অভিযানের আরো বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাবরা এলাকার কাছেই অবরুদ্ধ জায়তুন পাড়া। এই এলাকাটিকেই গত এক সপ্তাহ ধরে ইসরাইলি বাহিনী বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে। গাজা শহরের আল-আহলি হাসপাতালের একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, সাবরায় সর্বশেষ ইসরাইলি বোমা হামলায় একটি শিশু নিহত হয়েছে।
শনিবার দিনের শুরুতে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমে আসদা এলাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয় নেয়া তাঁবুতে গোলাবর্ষণ করে ইসরাইল। এতে ছয় শিশুসহ কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার জাতিসঙ্ঘ আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই প্রথম এমন ঘোষণা এলো। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ভয়াবহ খাদ্যসংকটে ভুগছেন।



