জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘ সনদ অনুযায়ী ইরান তার জনগণ, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে এবং তা অব্যাহত রাখবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জাতিসঙ্ঘে ইরানের স্থায়ী মিশনের উপ-প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত গোলাম হোসেইন দারজি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেসামরিক নাগরিক এবং স্কুল, হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র, সেতু, ক্রীড়াকেন্দ্রসহ অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে যুদ্ধাপরাধও অন্তর্ভুক্ত।’
তিনি মিনাবের একটি স্কুলে হামলার ঘটনাকে এর একটি ‘মর্মান্তিক ও অস্বীকারযোগ্য উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
দারজি জোর দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রকাশ্যেই এই জঘন্য অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন এবং এমনকি তা নিয়ে গর্বও করেছেন। এই ধরনের মন্তব্য তাদের দায়বদ্ধতার আরেকটি বড় প্রমাণ। যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের এই অবৈধ আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে। যারা এই গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ী, আজ হোক বা কাল, তাদের উপযুক্ত আন্তর্জাতিক বিচারিক সংস্থার মুখোমুখি হতে হবে।’
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং কোনো ধরনের দায়মুক্তির সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়া হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মকাণ্ড আরো উৎসাহিত হবে।
দারজি বলেন, ‘ইরানের সব পদক্ষেপ আত্মরক্ষামূলক, প্রয়োজনীয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সংগতিপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক অবৈধ কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।’
তিনি আরো বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান তার আত্মরক্ষার সহজাত অধিকার প্রয়োগ করেছে এবং নিজ জনগণকে রক্ষা করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষায় এই অধিকার প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।’
সূত্র: পার্সটুডে



