গাজার ৮৫ ভাগ এলাকা জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল

মার্চ মাসে ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর থেকে ৭ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি আবারো বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

গাজা উপত্যকার ৮৫ শতাংশ এলাকা ইসরাইল জোরপূর্বক উচ্ছেদের ও সামরিকীকরণের নির্দেশ দিয়েছে লে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)।

শুক্রবার (৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে যে- গাজার ৮৫ শতাংশ এলাকা এখন ইসরাইলি-সামরিকীকরণের অথবা জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, মার্চ মাসে ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর থেকে ৭ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি আবারো বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যেখানে সতর্ক করে বলা হয়েছে, চার মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো জ্বালানি ছিটমহলে প্রবেশ না করায় গাজার জ্বালানি সঙ্কট আরো তীব্র হচ্ছে।

ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো গুরুতর অপারেশনাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক ক্ষতি, নিরাপদ চলাচলে বাধা এবং চিকিৎসা সরবরাহ ও জ্বালানি প্রবেশের উপর বিধিনিষেধ।’

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। দেশটির অব্যাহত এ হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগবে। এজন্য প্রতিদিন ১০০টি লরি ব্যবহার করতে হবে।

জাতিসঙ্ঘের হিসাব মতে, গাজায় ভবন ধসে এ পর্যন্ত ৪২ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে। এ ধ্বংসস্তূপগুলো যদি একসাথে এক জায়গায় রাখা যায়, তাহলে তা মিসরের ১১টি গ্রেট পিরামিডের সমান হবে। এ ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি)।

ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের হিসাব অনুসারে, গাজায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অঞ্চলটির মোট ভবনের অর্ধেকের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া এক-দশমাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলার জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ হেক্টর জমির প্রয়োজন পড়বে।

সূত্র : আল-জাজিরা