ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে বিকল্প তেল পাইপলাইন নির্মাণ ও সম্প্রসারণে সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা করছে জাপান।
বুধবার দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান যুদ্ধ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানিকৃত তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। এসব তেলের বড় অংশই বর্তমানে সঙ্কটাপন্ন হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়।
জাপানের দৈনিক নিক্কেই জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের বিকল্প রুট সম্প্রসারণ ও নতুন পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগে সহায়তা করবে জাপান।
সরবরাহ সঙ্কট মোকাবিলায় জাপান ইতোমধ্যে দেশটির মজুত তেল ব্যবহার শুরু করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিও বাড়িয়েছে।
জাপানের সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, বুধবার অনুষ্ঠেয় সরকারি বৈঠকে আরো কিছু পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। এর মধ্যে ন্যাফথা উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে তোলার একটি উদ্যোগও রয়েছে।
ন্যাফথা হলো অপরিশোধিত তেলের একটি উপজাত, পরিশোধনের পর যা বিভিন্ন শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
এনএইচকে আরো জানিয়েছে, জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় জাপান পারমাণবিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার বাড়াতে চায়। পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের পেরোভস্কাইট সৌর প্রযুক্তির উন্নয়নেও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে পারে- এমন পূর্বাভাসের মধ্যে জাপান ইতোমধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাত পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের ১৫ বছর পর দেশটি আবারো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে জোর দিচ্ছে।
সূত্র : বাসস



