খামেনির নির্দেশে

হরমুজ প্রণালী বন্ধের পরিকল্পনা হয়েছিল ১৫ বছর আগেই: সাফাবি

২০১১ সালেই এই কৌশলগত নৌপথ বন্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, আজ যা কিছু ঘটছে, তা ১৫ বছর আগে তাঁর দূরদর্শিতায় তৈরি হওয়া সেই পরিকল্পনারই অংশ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
খামেনি ও সাফাবি
খামেনি ও সাফাবি |সংগৃহীত

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি জানিয়েছে, শত্রুদের ঠেকাতে হরমুজ প্রণালী বন্ধের এই মহাপরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেইর সরাসরি নির্দেশনায়।

সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহইয়া রহিম সাফাবি মঙ্গলবার জানান, ২০১১ সালেই তাকে এই কৌশলগত নৌপথ বন্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, আজ যা কিছু ঘটছে, তা ১৫ বছর আগে তাঁর দূরদর্শিতায় তৈরি হওয়া সেই পরিকল্পনারই অংশ।

সাফাবি জানান, আইআরজিসি-র তৎকালীন কমান্ডার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ এবং সেসময়ের ডেপুটি কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামিকে সাথে নিয়ে তিনি ১৫ পৃষ্ঠার একটি যুদ্ধ অভিযান সংক্রান্ত পরিকল্পনার খসড়া করেছিলেন। এই প্রস্তাবে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগরে সামরিক অভিযানের বিষয়টিও যুক্ত ছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানের ওপর হামলা চালানোর পরপরই শত্রু দেশ ও তাদের মিত্রদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথটি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এরপর ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবৈধ নৌ-অবরোধ বজায় রাখে ওয়াশিংটন। এর জবাবে নৌপথে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে ইরান।

এরপর গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, এই কৌশলগত পানিপথটি পুনরায় চালু ও পরিচালনার দায়িত্ব পায় ইরান। সমঝোতা মেনে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য একটি বিশেষ সামুদ্রিক রুটও তৈরি করে দেয় তারা। সাথে সতর্ক করা হয়, কোনো জাহাজ যেন অবৈধ রুট ব্যবহার না করে।

কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি অবৈধ রুট দিয়ে জোর করে জাহাজ পার করানোর চেষ্টা শুরু করে। এর ফলেই ওয়াশিংটন আঞ্চলিক নৌ-চলাচলে হস্তক্ষেপ বন্ধ না করা পর্যন্ত এই করিডোর পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ইরান। এর মধ্যে ট্রাম্প আবার হুমকি দিয়েছেন, তারা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেবেন এবং এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন "প্রচুর অর্থ" পাবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত" হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই নৌপথ এখন থেকে সম্পূর্ণ ইরানি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে।