হরমুজ প্রণালীকে ‘সবচেয়ে বড় শক্তির হাতিয়ার’ বলল তেহরান

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য ‘ঈশ্বরপ্রদত্ত এক কৌশলগত সম্পদ’ এবং এটি দেশের ‘সবচেয়ে বড় শক্তির হাতিয়ার’। তার ভাষায়, এই জলপথে ইরানের সার্বভৌম অধিকার কোনো আলোচনার বিষয় নয় এবং এ অবস্থান থেকে তেহরান কখনোই সরে আসবে না

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে ইরানের ‘সবচেয়ে বড় শক্তির হাতিয়ার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তেহরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার থেকে কোনো অবস্থাতেই সরে আসবে না তেহরান।

বুধবার (১ জুলাই) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য ‘ঈশ্বরপ্রদত্ত এক কৌশলগত সম্পদ’ এবং এটি দেশের ‘সবচেয়ে বড় শক্তির হাতিয়ার’। তার ভাষায়, এই জলপথে ইরানের সার্বভৌম অধিকার কোনো আলোচনার বিষয় নয় এবং এ অবস্থান থেকে তেহরান কখনোই সরে আসবে না।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে কেবল সামুদ্রিক সেবা-সংক্রান্ত ফি আদায়ের বিষয়ে সাময়িক ছাড় দেয়া হয়েছে। তবে এতে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব বা দীর্ঘদিনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

গালিবাফের দাবি, হরমুজ ইরানের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উপাদান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন এ জলপথকে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করে।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তিকালে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ জলপথে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

সম্প্রতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। জলপথটির নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক চলাচল নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে তেহরানের সর্বশেষ এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা