রণক্ষেত্রে শক্তি ক্ষয়: যুদ্ধাস্ত্রের পর এবার কি সেনা সঙ্কটে আমেরিকা!

সৈয়দ মূসা রেজা

ইরানের ওপর ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের চাপিয়ে দেয়া ৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে আমেরিকা সামরিক সরঞ্জাম এবং জনবল—উভয় ক্ষেত্রেই এক ক্লান্তিকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।

ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এক দ্বিমুখী সঙ্কটের মুখোমুখি। একদিকে যেমন ফুরিয়ে আসছে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের মজুদ, তেমনি অন্যদিকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা সেনাদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠছে।

তাসনিম নিউজের যুদ্ধ পর্যালোচনা গোষ্ঠীর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হালে আমেরিকা তার সরঞ্জাম এবং জনবল—উভয় ক্ষেত্রেই এক চরম অবসাদগ্রস্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি।

সামরিক শক্তির মূল্যায়নে মূলত দুটি প্রধান সূচক ব্যবহার করা হয়, প্রথমটি হলো ‘কমব্যাট ক্যাপাবিলিটি’ বা যুদ্ধ সক্ষমতা এবং দ্বিতীয়টি হলো ‘কমব্যাট রেডিনেস’ বা যুদ্ধের প্রস্তুতি। যুদ্ধ সক্ষমতা বিষয়টি হার্ডওয়্যার বা সমর সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল; অর্থাৎ একটি বাহিনীর হাতে কতগুলো অস্ত্র,কামান,ট্যাংক বা বিমান মজুদ আছে। বিপরীতে, যুদ্ধের প্রস্তুতি সরাসরি জনবলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে; অর্থাৎ রণক্ষেত্রে লড়াই করার জন্য একজন সেনা শারীরিক ও মানসিকভাবে কতটা প্রস্তুত এবং সে কতটা উন্নত প্রশিক্ষণ ও রণকৌশল আয়ত্ত করেছে।

বর্তমানে মার্কিন বাহিনী তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি তুলে ধরা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনারা চরম ক্লান্ত। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত সংঘাতের উত্তেজনার কারণে তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদ তৈরি হয়েছে। ফলে এখনই এই সেনাদের সরিয়ে নতুন বাহিনী মোতায়েন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে বড় সমস্যা হলো, আগের বাহিনী সরিয়ে যেখানে নতুন সেনা পাঠানো হবে, সেই ঘাঁটিগুলো ইতোমধ্যে হামলার শিকার হয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যুদ্ধের আগের মতো অবকাঠামো বা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সেখানে আর অবশিষ্ট নেই।

অস্ত্রের মজুদের ক্ষেত্রেও মার্কিনিরা চাপের মুখে রয়েছে। আমেরিকা এবং বিশেষ করে ইহুদিবাদী ইসরাইল তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করলেও এখন ফুরিয়ে আসা মিসাইল প্রতিস্থাপন করা তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জাহাজে থাকা ‘স্ট্যান্ডার্ড’ মিসাইল এবং ‘টমাহক’ ক্রুজ মিসাইলের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন নিজস্ব সূত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, তারা ইতোমধ্যে তাদের মোট ক্রুজ মিসাইল মজুদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।

অন্যদিকে, ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসনের জাহাজগুলোতে মূলত ‘আয়রন ডোম’ এবং ‘বারাক’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকে। এই ব্যবস্থাগুলো মূলত স্বল্প পাল্লার রকেট বা কামানের গোলা ঠেকানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।এই দুই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল মোকাবিলায় সক্ষম নয়।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে দেখা গেছে, ইসরাইলিরা শেষ মুহূর্তের প্রতিরক্ষা হিসেবে বিপুল পরিমাণ আয়রন ডোম মিসাইল ছুড়েছে। কিন্তু ব্যালিস্টিক মিসাইলের গতির প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল ইন্টারসেপশন বা মাঝ আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে এক চরম সামরিক অস্থিরতা এবং সক্ষমতার ঘাটতি নিয়ে বিপাকে পড়েছে আমেরিকা ও তাদের মিত্ররা।

সূত্র: তাসনিম নিউজ