সৌদি আরবের বাদশাহ ও পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র হজ উপলক্ষে ১০০টি দেশের ১৩০০ জন মুসল্লিকে সরকারি অতিথি হিসেবে হজ পালনের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক, দাওয়াত ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয়।
দেশটির ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী ও অতিথি কর্মসূচির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক শেখ ড. আবদুলাতিফ আল আশশেখ এ সিদ্ধান্তের জন্য বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ মহান উদ্যোগ সৌদি নেতৃত্বের প্রজ্ঞার পরিচায়ক এবং ইসলামী উম্মাহর কল্যাণে তাদের নিষ্ঠার প্রমাণ। এটিকে মুসলিম বিশ্বে সৌদি আরবের দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরো জানান, রাজ পরিবারের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই অতিথিদের সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর মধ্যে রয়েছে মক্কা-মদিনার গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি ও ঐতিহাসিক স্থানসমূহ পরিদর্শনের ব্যবস্থা এবং দুই পবিত্র মসজিদের শীর্ষ আলেম ও ইমামদের সাথে সাক্ষাৎ। এসব উদ্যোগ হজ যাত্রীদের আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘পবিত্র দুই মসজিদের খাদেমের অতিথি কর্মসূচি’ সৌদি আরবের ব্যতিক্রমধর্মী একটি উদ্যোগ। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নেতা, আলেম, চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ও ইসলামী বার্তা প্রচারের উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে।
১৪১৭ হিজরি সালে প্রথম এ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ১৪০টি দেশ থেকে প্রায় ৬৫ হাজার মুসল্লিকে হজ পালনের সুযোগ দেয়া হয়েছে।
তাদের মনোনয়ন থেকে শুরু করে হজ সম্পন্ন করে দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত ধর্মীয়, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহনসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে সৌদি সরকার।
মন্ত্রী আল আশশেখ বলেন, এ উদ্যোগটি ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি সৌদি আরবের অবিচল অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি অন্যান্য ইসলামী দেশের সাথে রিয়াদের সম্পর্ক জোরদার করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ। সেই সাথে এটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর ইসলামিক ও মানবিক লক্ষ্য অর্জনের পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।



