গাজা যুদ্ধ : জোটরক্ষায় সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে যা করছেন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহু আগে গাজাকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা সমর্থন করতেন না। তবে এখন জোট শরীকদের সাথে দর কষাকষির উপায় হিসেবে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাচ্ছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নেতানিয়াহু-স্মোট্রিচ
নেতানিয়াহু-স্মোট্রিচ |আল জাজিরা

অতিডানপন্থী দলগুলোর জোট ত্যাগের কারণে সংসদে সংগরিষ্ঠতা হারানোর পথে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহ। এখন মাত্র ৫০টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করছেন তিনি। এরও মধ্যে ভেতরগত নানামুখী চাপে পড়তে হচ্ছে তাকে। আরো কিছু অংশীদারদের থেকে জোটত্যাগের হুমকি আসছে ক্রমাগত। সেজন্য জোট বাঁচাতে শেষ চেষ্টাটা করে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, অচিরেই কিছু শর্ত দিয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাখবেন তিনি। কিছু দিনের মধ্যে যদি হামাস তা মানতে সম্মত হয়, তাহলে তো ভালো। অন্যথায় তিনি পর্যায়ক্রমে গাজাকে ইসরাইলের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নেবেন এবং ধীরে ধীরে পুরো গাজাকে ইসরাইলের অন্তর্ভুক্ত করে নেবেন।

ইসরাইলি গণমাধ্যম হারেৎস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিরাপত্তা বা কৌশলগত কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেননি। বরং নিজের দুর্বল জোট রক্ষার্থে এবং অর্থমন্ত্রী বেজালাল স্মোট্রিচকে সন্তুষ্ট করার জন্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

গত ২৮ জুলাই সোমবার মন্ত্রীপরিষদের শীর্ষস্থানীয়দের নিয়ে ক্যাবিনেট আহ্বান করেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি সদস্যদের সামনে একটি পরিকল্পনার খসড়া পেশ করেন। যাতে হামাসকে কিছুদিনের অবকাশ দেয়া হবে মর্মে বলা হয়েছে। এই সময়ে যদি হামাস ইসরাইলি পরিকল্পনা মেনে না নেয়, তাহলে ধীরে ধীরে গাজাকে ইসরাইলের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে প্রথমে বাফার জোনকে দখল করা হবে। এরপর উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলো। তারপর পুরো গাজা উপত্যকা।

ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইসরাইলের কৌশলবিষয়ক মন্ত্রী রন ডার্মার নতুন এই পরিকল্পনাটি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে আলোচনা করেছেন। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস তাদের এই পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছে। তবে ওই আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন না। তিনি তখন স্কটল্যান্ড সফরে ছিলেন।

নেতানিয়াহু আগে গাজাকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা সমর্থন করতেন না। তবে এখন জোট শরীকদের সাথে দর কষাকষির উপায় হিসেবে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাচ্ছেন। বিশেষ করে যখন গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে, তখন উগ্র ডানপন্থীরা জোট ত্যাগের হুমকি দিতে শুরু করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নেতানিয়াহু সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছেন।

সূত্র : আল জাজিরা