ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করতেই কি সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিলো ইসরাইল

সোমালিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এর অন্যতম কারণ হলো গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা। এই বিষয়ে ইসরাইলের লক্ষ্য সবারই জানা।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নেতানিয়াহু সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আব্দিরহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহির সাথে ফোনে কথা বলছেন
নেতানিয়াহু সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আব্দিরহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহির সাথে ফোনে কথা বলছেন |সংগৃহীত

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরাইল। এতে ইসরাইলের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সোমালিয়া। এই পদক্ষেপকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশটি।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সোমালিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলী ওমর এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সরকার ‘রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন’ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইসরাইলি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক উপায় অবলম্বন করবে।

এর আগে, শুক্রবার সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরাইল। এই ঘটনার একদিন পরেই সোমালিয়ার পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হলো। আফ্রিকান ও আরব দেশগুলোও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ইসরাইলি পরিকল্পনার অংশ কি না তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ওমর অভিযোগ করেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে সোমালিল্যান্ডে স্থানান্তরের লক্ষ্যেই ইসরাইল এই স্বীকৃতির পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর অন্যতম কারণ হলো গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা। এই বিষয়ে ইসরাইলের লক্ষ্য সবারই জানা।’

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সোমালিয়ার এই আশঙ্কাকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, এর আগে ইসরাইল সোমালিল্যান্ডকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। একে ফিলিস্তিন ‘রেড লাইন’ বা সীমা লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই কূটনৈতিক ঘটনাকে ‘আব্রাহাম একর্ডস’-এর চেতনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, তিনি আগামীকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের সময় এ বিষয়টি উত্থাপন করবেন।

১৯৯১ সালে এক নৃশংস গৃহযুদ্ধের পর সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে যায় সোমালিল্যান্ড। কিন্তু তারা জাতিসঙ্ঘের কোনো সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে কখনো স্বীকৃতি পায়নি। স্বঘোষিত এই প্রজাতন্ত্র নিজস্ব মুদ্রা, পতাকা ও সংসদ প্রতিষ্ঠা করেছে, যদিও এর পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলো নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে।

সূত্র : আল জাজিরা