ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবিতে ৭৬ জন নিহত, বহু নিখোঁজ

ইয়েমেন উপকূলে একটি অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ৭৬ জন নিহত এবং অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবি
ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবি |সংগৃহীত

ইয়েমেন উপকূলে একটি অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ৭৬ জন নিহত এবং অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই ইথিওপিয়ার নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হয়েছে ৩২ জন, জানিয়েছেন ইয়েমেনি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

দুবাই থেকে এএফপি জানায়, জাতিসঙ্ঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওম) জানিয়েছে, রোববারের ওই নৌকাটিতে মোট ১৫৭ জন যাত্রী ছিল।

আইওএম-এর ইয়েমেন মিশনের প্রধান আব্দুসাত্তার এসোয়েভ বলেন, ‘এটি এই বছরে ইয়েমেন উপকূলে হওয়া অন্যতম ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা।’

নৌকাটি দক্ষিণ ইয়েমেনের আবইয়ান প্রদেশ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল, যেখানে সাধারণত আফ্রিকান অভিবাসীবাহী নৌকা এসে পৌঁছায়। এসব অভিবাসীর লক্ষ্য থাকে সৌদি আরব কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় ধনী দেশগুলোতে পৌঁছানো।

নিখোঁজদের বিষয়ে এসোয়েভ বলেন, ‘তাদের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত।’ যেসব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের ইয়েমেনের আদেন শহরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

২০১৪ সাল থেকে গৃহযুদ্ধ কবলিত ইয়েমেন এখনো আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট। বিশেষ করে ইথিওপিয়ার অনেক নাগরিক, যারা নিজ দেশে জাতিগত সহিংসতার শিকার, এই পথ বেছে নিচ্ছেন।

প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ‘ইস্টার্ন রুট’ ধরে জিবুতি থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশে যাওয়ার চেষ্টা করে। আইওএম জানিয়েছে, এই পথে শুধু ২০২৪ সালেই ৫৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৪৬২ জন নৌকাডুবিতে মারা যায়।

মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টার-এর গবেষক আয়লা বনফিগলিও বলেন, ‘এই রুটটি পুরোপুরি মানবপাচারকারী ও চোরাকারবারীদের দখলে, এবং অভিবাসীদের তাদেরই সহায়তা নিতে হয়।’

তিনি যোগ করেন, ‘অভিবাসীরা ঝুঁকি সম্পর্কে জানে, কিন্তু সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সে পরিবার নির্ভর করায়, তাদের অনেকের সামনে বিকল্প থাকে না।’

আইওএম জানায়, গত মাসেও একই পথে ১৫০ অভিবাসীকে সাগরে ফেলে দেয় চোরাকারবারীরা, যাতে ৮ জন মারা যায়।

প্রাদেশিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানায়, আবইয়ান উপকূলে ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে থাকা যাত্রীদের অধিকাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক।

এই পথে ইয়েমেনের বাব আল-মান্দাব প্রণালী অতিক্রম করতে হয় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ, তবে একইসাথে এটি অভিবাসন ও মানবপাচারের রুট হিসেবেও পরিচিত।

তবে ইয়েমেনে পৌঁছেও নিরাপদ নয় এই অভিবাসীরা। আইওএম বলছে, দশ হাজারেরও বেশি অভিবাসী ইয়েমেনে আটকে আছে এবং তারা সেখানে নির্যাতন ও শোষণের শিকার।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রে বিমান হামলায় ৬০ জনের বেশি নিহত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দোষ চাপায় হাউছি বিদ্রোহীরা, যারা ইয়েমেনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

উপসাগরীয় দেশগুলো—বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক বিদেশী শ্রমিককে আশ্রয় দিয়েছে।

ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ডিনাল পিয়েত্রো প্যারোলিন জানিয়েছেন, পোপ এই মর্মান্তিক প্রাণহানিতে গভীরভাবে শোকাহত।

সূত্র : বাসস