ইসরাইলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বৃহত্তম শহর দখলের পরিকল্পনার আগে স্বাধীনতাকামী হামাসের ব্যবহৃত উঁচু ভবনগুলোকে টার্গেট করে হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই শুক্রবার গাজা শহরের একটি বহুতল ভবন ধ্বংস করে দিয়েছে।
গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলা অভিযান বন্ধ করার জন্য দেশে-বিদেশে ক্রমবর্ধমান চাপ সত্ত্বেও ইসরাইল রিজার্ভ বাহিনীকে ডেকে বোমাবর্ষণ তীব্র করছে এবং গাজা শহরের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ‘গাজা শহরের বিভিন্ন অবকাঠামোগত স্থানে বিশেষ করে উঁচু ভবনগুলোতে হামাসের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চিহ্নিত করেছে’। তারা ‘আগামী দিনে’ সেই স্থানগুলোকে টার্গেট করে অভিযান চালানোর হুমকি দিচ্ছে।
তারা বলেছে, এক ঘণ্টারও কম সময় পরে তারা এমন একটি বহুতল ভবনে আঘাত হেনেছে এবং হামাসকে ‘এলাকায় সৈন্যদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর জন্য’ এই ভবন ব্যবহার করার অভিযোগ এনেছে।
এএফপি ফুটেজে দেখা গেছে, শহরের আল-রিমাল পাড়ায় অবস্থিত মুশতাহা টাওয়ারটি হামাসের ঘাঁটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর ধসে পড়েছে। এর ফলে ধোঁয়া এবং ধুলোর ঘন মেঘ আকাশে উড়ছে।
এএফপি’র পরবর্তী ছবিতে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনিরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ এবং ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলার আগে, ‘বেসামরিক লোকদের ক্ষতি না হয় সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল’। এর মধ্যে পূর্ব সতর্কতাও জারি করা ছিল।
গাজা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি তাঁবুতে বসবাসকারী ৫০ বছর বয়সী বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আরেজ আহমেদ এএফপি’কে বলেছেন, তার স্বামী ‘মুশতাহা টাওয়ারের বাসিন্দাদের ওপরের তলা থেকে তাদের জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলতে দেখেছেন যাতে তারা হামলার আগে সেগুলো নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে’।
তিনি টেলিফোনে বলেছেন, ‘সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়ার আধ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে টাওয়ারটিতে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল’।



