পদত্যাগের গুঞ্জন অস্বীকার করলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান

আমি যদি পদত্যাগ করতেই চাইতাম, তবে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতাম। আমি পদত্যাগ করব না এবং আমার লড়াই জারি রাখব।'

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই নিজের পদত্যাগের খবর সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পদত্যাগ করার কোনো ইচ্ছে তার নেই এবং তিনি তার লড়াই চালিয়ে যাবেন। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ তথ্য উল্লেখ করেছে।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা 'ইরনা' প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক টেলিভিশন ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, 'আমি যদি পদত্যাগ করতেই চাইতাম, তবে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতাম। আমি পদত্যাগ করব না এবং আমার লড়াই জারি রাখব।'

খামেনির সঙ্গে বিরোধের দাবি প্রত্যাখ্যান

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সাথে তার কোনো মতবিরোধের দাবিও এক বাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা সবাই মিলে সম্পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছেন বলে তিনি জোর দিয়ে জানান।

তিনি আরও বলেন, 'সবাই জানে যে কোনো মতপার্থক্য তৈরি হলেও সামরিক বাহিনী খামেনির পাশেই থাকবে।'

এর আগে ইরানের বিরোধী দলগুলোর সংবাদমাধ্যমে জোর গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছিল যে, পেজেশকিয়ান নাকি খামেনির কাছে কয়েকবার নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াশিংটন ও ইসরাইল যৌথভাবে তেহরানের ওপর হামলা চালালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের এই সামরিক সংঘাত শুরু হয়। পাল্টা জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনীও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা সম্পদ রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর দুই দেশের সামরিক সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক সই করে তারা। তবে গত মাসে সেই চুক্তিটি বানচাল হয়ে যায়।

এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দু'পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা-পাল্টা হামলা চালায়। অবশেষে সংঘাত নিরসনে আলোচনার খবরের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই তার দেশের বোমাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দেন।