ন্যাটো সম্মেলনে কি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কোনো প্রভাব পড়বে?

পাঁচটি উপসাগরীয় আরব দেশ একে অপরের সাথে অর্থনৈতিক চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটোর দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে ইসরাইল ও ইরানের সঙ্ঘাত এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পরিবেশ রয়েছে।

এই আবহে শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য রওয়ানা হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বিবিসি ফারসির সংবাদদাতা জামাল-আল-দিন মুসাভি। তারা যখন হেগের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ই মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দেয় রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্ঘাত আরো বাড়বে এবং তা যে ন্যাটোর সম্মেলনে প্রভাব ফেলতে পারে সে বিষয়ে আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল। ন্যাটোর চুক্তি অনুযায়ী, একজন সদস্য আক্রান্ত হলে পরিস্থিতির নিরিখে অন্য সদস্যরা হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য। কাতার উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলেরও সদস্য।

পাঁচটি উপসাগরীয় আরব দেশ একে অপরের সাথে অর্থনৈতিক চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

মুসাভির মতে, কাতারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ছাড়াও ইরানের বিরুদ্ধে দুটি নতুন ফ্রন্ট খুলে দিতে পারত। এর মধ্যে একটি পথ খোলা থাকত তুরস্কসহ ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের কাছে। তবে তুরস্ক, কাতার ও ওমান আবার ইরানের মিত্র দেশ।

এই পরিস্থিতিতে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার বৈধতা আছে কি না। উত্তরে তিনি এই হামলাকে বৈধ বলে অভিহিত করেন এবং ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেন। এ থেকে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে ন্যাটো ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে রয়েছে।

কিন্তু হঠাতই চিত্র বদলে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতি এবং এমনকি শান্তির কথা বলে বসেন। শুধুমাত্র ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নয়, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে তিনি শান্তির পক্ষে কথা বলেন।

এভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতিবিদ, জনমত এমনকি যারা সরাসরি সঙ্ঘাতে লিপ্ত তাদেরও বিস্মিত করেন। নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ দুই দিনব্যাপী ন্যাটো সম্মেলনে ৪৫ জন রাষ্ট্রনেতা তাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সাথে নিয়ে যোগ দিচ্ছেন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে এখানে তারকা একজনই।

মুসাভি ব্যাখ্যা করেছেন, ন্যাটো সম্মেলনে বিজয়ীর তকমা পেতে চান ট্রাম্প। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটো নেতাদের সামরিক বাজেট বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, এক উত্তাল সপ্তাহে তিনি ফোর্দো পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আরেকটি পরমাণু শক্তিধর দেশের উত্থানের আশঙ্কাকে এড়াতে পেরেছেন। হোয়াইট হাউসের দৃষ্টিতে তিনি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সঙ্ঘাত বন্ধ করেছেন এবং ন্যাটো নেতাদের সামরিক বাজেট বৃদ্ধি করতে বাধ্য করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপের প্রতিরোধকে জোরদার করেছেন।

বিবিসির এই সংবাদদাতা মনে করেন, মার্ক রুট মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন এবং ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সমস্ত কিছুই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইচ্ছা অনুযায়ী হয়।