ইরানের ভেতরে বিস্ফোরক ড্রোন, গাড়িতে বসানো গোপন অস্ত্র : মোসাদের গালভরা দাবি

সূত্র অনুযায়ী, ইরানের গভীরে মোসাদ গোপনে বসিয়েছিল এই অস্ত্র ব্যবস্থা। ইসরাইলি সামরিক হামলা শুরু করার সাথে সাথেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়।

সৈয়দ মূসা রেজা
ইরানে ইসরাইলি সামরিক হামলা
ইরানে ইসরাইলি সামরিক হামলা |সংগৃহীত

মধ্যরাতের নিঃশব্দ অন্ধকারে ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছাকাছি আকাশে হঠাৎ জ্বলে উঠল বিস্ফোরণ। তীব্র শব্দ আর আগুনে কেঁপে উঠল চারপাশ। কেউ জানত না কোথা থেকে এলো হামলা, কীভাবে পারল এত গভীরে পৌঁছাতে। কিন্তু এবার ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ মুখ খুলেছে। কিংবা চাপাবাজি করছে। ইউরোনিউজকে জানিয়েছে তাদের চাঞ্চল্যকর এক ‘উচ্চপ্রযুক্তি’ গোপন অভিযানের কথা।

ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ একটি বহুস্তরবিশিষ্ট গোপন অভিযান চালায় ইরানের ভেতরে। এতে ব্যবহৃত হয় প্রিসিশন-গাইডেড উইপনরি বা নির্ভুল নির্দেশনাযুক্ত অস্ত্র এবং এক্সপ্লোসিভ ড্রোন বা বিস্ফোরক চালকহীন আকাশ যান।

সূত্র অনুযায়ী, ইরানের গভীরে মোসাদ গোপনে বসিয়েছিল এই অস্ত্র ব্যবস্থা। ইসরাইলি সামরিক হামলা শুরু করার সাথে সাথেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়।

ইসরাইলি গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, আমরা এসব অস্ত্র এমনভাবে স্থাপন করেছিলাম, যাতে ইরানের সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম বা ভূমি-থেকে-আকাশ নিক্ষেপ যোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের কাছাকাছি অবস্থান থেকেই কাজ করতে পারে।

দ্বিতীয়ত গাড়িকে চলমান অস্ত্রভাণ্ডার বানানোর দাবিও করা হয়েছে।

মোসাদের এই অভিযান শুধু স্থির অস্ত্র দিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা ইরানে ঢুকিয়ে দিয়েছিল এমন কিছু ভেহিকেল-মাউন্টেড স্ট্রাইক সিস্টেম। অর্থাৎ গাড়িতে চালকের অজান্তেই স্থাপন করা হয়েছিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং বিস্ফোরক।

এই বিশেষ গাড়িগুলো মোসাদের ভাষায় কাজ করেছে ইরানি এয়ার ডিফেন্স বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করতে।

ইসরাইলি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই ব্যবস্থা হামলার প্রারম্ভেই সক্রিয় হয় এবং ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।

তৃতীয়ত ইরানের মাটিতে গোপন ড্রোন ঘাঁটি বানানোর দাবিও করেছে! এ দাবি মোতাবেক, মোসাদ ইরানের অভ্যন্তরে তৈরি করে নিয়েছিল এক্সপ্লোসিভ ড্রোন বেস বা বিস্ফোরক চালকহীন আকাশ যানের ঘাঁটি। সময় মতো ড্রোন যেন ওড়ানো যায় সে জন্য এই ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছিল আগেভাগেই।

ইসরাইলি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তেহরানের কাছে এসফাজাবাদ ঘাঁটির দিকে ইরানের সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল লঞ্চার বা ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক লক্ষ্য করে ড্রোনগুলো হামলা চালায়।

নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা এবং প্রতিশোধের হুমকিতে উত্তপ্ত আকাশ।

ইউরোনিউজ আরো জানিয়েছে, এই অভিযানের সূত্রে ইরানে রাতভর ইসরাইলি বিমান হামলা চলে। এতে নিহত হন ইরানের বিপ্লবীরক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি’র কমান্ডার হোসেইন সালামি, চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ হোসেইন বাঘেরি, এমারজেন্সি ফোর্স কমান্ডার গোলাম রশিদ এবং অন্তত শীর্ষ ছয় পরমাণু বিজ্ঞানী।

ইরান প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। তেহরানের বক্তব্য, এই ‘সন্ত্রাসী অভিযান’-এর জবাব ‘ক্ষয়িষ্ণু কাগজের বাঘ’ ইসরাইলকে পুড়িয়ে দেয়া হবে।

যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমেই নিহত হয় সত্য-এ কথা সবার মুখে মুখে ফেরে। তাই মোসাদের এই অভিযানের দাবি কতটা বাস্তব, কতটা গালভরা কথা বা চাপাবাজি তা এখনো যাচাই চলছে। তবে ইউরোনিউজের তথ্য ইতোমধ্যেই একাধিক ইসরাইলি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সমর্থন করেছে বলা হচ্ছে।

একবিংশ শতাব্দীর মধ্যপ্রাচ্য এখন যেন গোয়েন্দা প্রযুক্তির গুপ্ত যুদ্ধক্ষেত্র-যেখানে প্রতিটি গোপন ক্লিক থেকেই ছুটে আসে ধ্বংস।