ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের ছয় দিনের সম্মাননা জানানোর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে ইরান ভিন্ন ভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তেলাওয়াত করে শুনিয়েছে। তবে সৌদি প্রতিনিধিদের সামনে তেলাওয়াতকৃত আয়াত নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ইরান কর্তৃপক্ষ পবিত্র কোরআন থেকে যে আয়াতগুলো পাঠ করে শুনিয়েছে, তা বাছাই করা হয়েছে অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে। কারণ, সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল যখন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয় তখন কোরআনের সূরা আলে-ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত থেকে পাঠ করা হয়। যে আয়াতটিতে যুদ্ধাবস্থায় মুসলিম ও কাফিরদের ভূমিকার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে বর্ণিত আছে। যেটির মাধ্যমে সৌদি আরবকে বিশেষ বার্তা দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সামনে ইরানের কারীদের তেলওয়াতকৃত সূরা আলে-ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াতের বঙ্গানুবাদ হলো- ‘তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে সেই দু’দল সৈন্যের মধ্যে যারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দীরূপে দাঁড়িয়েছিল (বদর প্রান্তরে)। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল এবং অপরদল ছিল কাফির, কাফিররা মুসলিমদেরকে প্রকাশ্য চোখে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় সাহায্যের দ্বারা শক্তিশালী করে থাকেন, নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা করে। পরবর্তীকালে ইরান পাল্টা হামলা করে যুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে ইরানের এই যুদ্ধে সৌদি আরবসহ এর পাশ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলোর ভূমিকা ছিল বিতর্কিত ও কিছুক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। এ কারণেই হয়ত ইরান এমন কৌশল অবলম্বন করেছে।



