আজ পাকিস্তান সফরে যাবেন পেজেশকিয়ান

এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে আজ পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সফরের শুরুতেই তিনি প্রধানমন্ত্রী শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সাথে বৈঠকে বসবেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান |সংগৃহীত

এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে তার এই সফর।

সফরের শুরুতেই তিনি প্রধানমন্ত্রী শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সাথে বৈঠকে বসবেন। এছাড়া সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় সংসদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার পেজেশকিয়ানের সাথে দেখা করবেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাকিস্তানে এটি তার দ্বিতীয় সফর। এই সফরে বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের সাথে যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগসহ নানা বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা আরো গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। একই সাথে গত ১৮ জুনের ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ সইয়ের পর চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে এই সফরে, যা এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই অগ্রগতির প্রতি দুই দেশের যৌথ প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এ সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যার ঠিক আগেই সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘লেক লুসার্ন সামিট’ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সংলাপে পাকিস্তানের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ডিফেন্স ফোর্সের চিফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির অংশ নেন।

১৮ জুনের ১৪ দফার ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে যুদ্ধ শেষ করা, হরমুজ প্রণালী আবারো খুলে দেয়া এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মূল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে একটি কাঠামো তৈরিতে একমত হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

সুইজারল্যান্ডের এই শীর্ষ বৈঠকটি মূলত পরবর্তী কারিগরি আলোচনার একটি পথ তৈরি করেছে, যা চলতি সপ্তাহেই আবারো শুরু হতে যাচ্ছে। মধ্যস্থতাকারীদের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে একটি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চ্যানেল খোলার পাশাপাশি লেবাননের যুদ্ধ থামাতে একটি বিশেষ ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনেও দুই পক্ষ রাজি হয়েছে, যা ইরানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

সূত্র: দ্য ডন