পশ্চিম এশিয়ায় ইহুদিবাদী প্লেগ-প্রকল্প ‘জাতিগত বিভেদ’

অবৈধ ইহুদিবাদী শাসক-চক্র জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রদায়িকতার মহামারী বৃদ্ধি করছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মরক্কোর অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হাসান আউরিদ
মরক্কোর অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হাসান আউরিদ |পার্সটুডে

মরক্কোর এক বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, অবৈধ ইহুদিবাদী শাসক-চক্র জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রদায়িকতার মহামারী বৃদ্ধি করছে।

মরক্কোর অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হাসান আউরিদ ইসরাইল পশ্চিম এশিয়ায় প্লেগ ছড়িয়ে দিচ্ছে শীর্ষক একটি নিবন্ধে এই অঞ্চলে জাতিগত ও ধর্মীয়-বিভেদকে আরো বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে ইহুদিবাদী অবৈধ শাসক-চক্রের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেছেন।

সুয়েইদায় দ্রুজদের সমর্থনের অজুহাতে সিরিয়ায় ইসরাইলের আক্রমণের কথা উল্লেখ করে তিনি তার এ বিশ্বাস তুলে ধরেছেন যে সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি রয়েছে গুরুতর ও অনিবার্য হুমকি এবং দেশটিকে দুর্বল করার চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান।

আউরিদ সতর্ক করে বলেছেন, এই বিপদ কেবল সিরিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই প্রবণতা মরক্কোসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তিনি সিরিয়ার সুয়েইদায় সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এবং সিরিয়ায় ইহুদিবাদী সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করেন না। বরং অঞ্চলটিকে পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা বা ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন যা নতুন সাইকস-পিকো চুক্তির মতো। কিন্তু প্রাথমিক ঔপনিবেশিক বিভাজনের চেয়েও অনেক গভীর এবং জটিল, যার লক্ষ্য হলো বিভক্তদের আরো বিভক্ত করা এবং বিচ্ছিন্নদের আরো বেশি বিচ্ছিন্ন করা।

তার মতে, এই ঘটনাগুলো কেবল একটি সাম্প্রদায়িক বিস্ফোরণ নয়। বরং একটি বিপজ্জনক লক্ষণ যা ধর্মীয় ও জাতিগত সীমানার উপর ভিত্তি করে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ভূগোল পুনর্লিখনের প্রচেষ্টা; আর এটা এমন একটি ঘটনা যা এমনকি আরব বিশ্বের পশ্চিমাঞ্চলকেও ঘিরে ফেলতে পারে।

মরক্কোর এই বিশ্লেষক তার প্রবন্ধে জোর দিয়ে বলেছেন, গোত্র বা জাতীয়তার ভিত্তিতে পশ্চিম এশিয়ায় নানা রাষ্ট্র গঠনের ধারণাটি ইহুদিবাদী শাসকচক্রের কৌশলগত আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাবিত হয়েছে। এখন এটি তত্ত্বের স্তর থেকে সরকারি নীতিতে উন্নীত হয়েছে।

এই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ জোর দিয়ে বলেন, এই ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার কৌশলের নতুন বিষয় বুঝতে আমাদের আর গবেষণা বা থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলোর বিশ্লেষণের মুখোমুখি হতে হবে না; সিরিয়ায় সামরিক উস্কানি, গোলান হাইটস দখল, দামেস্কের শহরতলিতে বোমা হামলা, লেবাননের উপর চাপ এবং জর্ডানের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হুমকির মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসরাইল সরাসরি সাম্প্রদায়িক উস্কানির প্রকল্পে জড়িত।

তিনি বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতার মহামারিকে যা খাইয়ে হৃষ্টপুষ্ট করা হচ্ছে তা হলো বাহ্যিক মতপার্থক্যগুলোকে উস্কে দেয়া এবং সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র প্রদান, আউরিদ লিখেছেন, কিন্তু এই মহামারী এমন একটি সমাজে বৃদ্ধি পায় যেখানে পরিচিতির নিরাপত্তা নেই।

সূত্র : পার্সটুডে