ইসরাইলের যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম ‘দুর্ভেদ্য’ বলে দাবি করা হয়, তা কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের বারুদ আর ড্রোনের কানফাটানো গুঞ্জনে আরো থমথমে হয়ে উঠল।
আজ এক জরুরি ঘোষণায় তেহরান জানিয়েছে, ইরানের একঝাঁক বিধ্বংসী ড্রোন ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘পালমাখিম’ বিমান ঘাঁটি এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’-এর সদরদফতরে সরাসরি আঘাত হেনেছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির প্রতিরক্ষা উইং থেকে প্রকাশিত ২৪ নম্বর সামরিক বুলেটিন অনুযায়ী, গত কয়েক ঘণ্টায় একযোগে চালানো এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইসরাইলের পালমাখিম এবং উবেদা (ওভদা) বিমান ঘাঁটিসহ অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোকে। তেহরানের দাবি, তাদের ‘সুইসাইড ড্রোন’ বা আত্মঘাতী ড্রোনগুলো নিখুঁত নিশানায় ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ফাঁকি দিয়ে মূল স্থাপনাগুলোতে আছড়ে পড়েছে।
তেল আবিবের ঠিক পাশেই অবস্থিত পালমাখিম ঘাঁটিটি ইসরাইলি সামরিক শক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি কেবল একটি সাধারণ বিমান ঘাঁটি নয়, বরং দেশটির স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র। এখান থেকেই পরিচালিত হয় আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম ঢাল ‘ডেভিডস স্লিং’ এবং ঘাতক ‘হার্মিস ৯০০’ ড্রোন। এই ঘাঁটিতে আঘাত হানার অর্থ হলো ইসরাইলের চোখ ও হাত- উভয়কেই পঙ্গু করে দেয়ার চেষ্টা।
অন্যদিকে, নেগেভ মরুভূমির উবেদা বিমান ঘাঁটিটি ইসরাইলি বিমান বাহিনীর কৌশলগত প্রশিক্ষণের প্রাণকেন্দ্র। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এখানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকে।
এই ঘাঁটিতে হামলার দাবি সরাসরি ওয়াশিংটনকেও একটি কড়া বার্তা দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উপস্থিতিও এখন আর নিরাপদ নয়।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে শিন বেত সদরদফতরে হামলার খবরে। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রধান কারিগর হলো এই শিন বেত। রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে গোপন অপারেশন পরিচালনা- সবই হয় এই সদরদফতর থেকে।
ইরানের এই হামলা যদি সফল হয়ে থাকে, তবে তা মোসাদ বা শিন বেতের মতো গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য এক চরম লজ্জাজনক ও বড় ধরনের নিরাপত্তা বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য হবে।
ইসরাইল সরকার এবং সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে এখনো ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত খতিয়ান দেয়া না হলেও গাজা ও লেবানন সীমান্তের পাশাপাশি এখন ইসরাইলের খোদ হৃদপিণ্ডেও যুদ্ধের দামামা তীব্রতর হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই আক্রমণ কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি ইসরাইলের গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানানোর একটি মরিয়া কৌশল।



