সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিলো দামেস্কের আদালত

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে সংঘটিত সমস্ত অপরাধের প্রধান সিদ্ধান্তদাতা বা নির্দেশদাতা ছিলেন বাশার আল-আসাদ নিজেই।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাশার আল আসাদ
বাশার আল আসাদ |সংগৃহীত

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং খালাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাদের এই দণ্ড দেয়া হয়েছে।

সিরিয়ায় খামেনি বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ছাড়াই নতুন অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে আসাদ সরকারের নেতাদের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম কোনো আদালতের রায়। বিচারক ফখরুদ্দিন আল-আরিয়ান জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আসাদই ছিলেন এসব অপরাধের মূল সিদ্ধান্তদাতা এবং তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে অপব্যবহার করেছেন।

আসামিদের বর্তমান অবস্থান

Assad-and-his-brother

বাশার আল-আসাদ (বামে) এবং আতেফ নাজিব

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতার পতন ঘটার পর বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে যান। তারা দুজনেই বর্তমানে দেশটির রাজধানী মস্কোতে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই আদালত এই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দামেস্ক সরকার তাদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানালেও মস্কো তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে লেবাননসহ অন্যান্য দেশে লুকিয়ে থাকা সাবেক কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

খাঁচায় দাঁড়িয়ে সাজা শুনলেন আতেফ নাজিব

৬৬ বছর বয়সী আতেফ নাজিব ছিলেন দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান। ২০১১ সালে দেরা প্রদেশে একটি স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী দেয়াললিখন (গ্রাফিতি) লেখার অপরাধে কয়েকজন কিশোরকে গ্রেফতার ও নির্মম নির্যাতন করা হয়। নাজিবের নির্দেশে চালানো সেই দমনপীড়ন থেকেই সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে লাতাকিয়া প্রদেশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী। মঙ্গলবার আদালতের এজলাসে কয়েদির পোশাক পরে লোহার খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে সাজা শোনেন তিনি। বিচারক জানান, নাজিব নিজের দোষ অস্বীকার করেছেন এবং কোনো অনুশোচনা দেখাননি। আতেফ নাজিব ছাড়া সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফাহাদ আল-ফ্রেজ ও গোয়েন্দা প্রধান লুয়াই আল-আলিসহ পালিয়ে যাওয়া আরো বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ন্যায্য বিচার ও স্বস্তি

রায়ের পর দামেস্কের আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন। অনেকে স্বজনদের ছবি হাতে বিচার উদযাপিত করেন। আল জাজিরা মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জানিয়েছে, বহু বছর ধরে নির্যাতিত সিরিয়ার মানুষের কাছে এই রায় এক স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে এসেছে। গৃহযুদ্ধে সাড়ে চার লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক লাখ ৮১ হাজারের বেশি মানুষ গুম বা আটক হয়েছেন, যার ৯০ শতাংশই করেছে আসাদ সরকার।

ইন্টারিম প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সরকারের অধীনে পরিচালিত এই বিচার প্রক্রিয়াকে সিরিয়ার ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।