গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইসরাইলের, দীর্ঘ লড়াইয়ে প্রস্তুত হামাস

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামাস একটি ’বিস্তৃত চুক্তির’ প্রস্তাব দিয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় সব পণবন্দীকে একসাথে মুক্তি দেয়ার কথা বলেছিল হামাস। কিন্তু ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীরা তা নাকচ করে দেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সামরিক শাখার মুখপাত্র আবু ওবেইদা জানিয়েছেন, অবরুদ্ধ গাজায় আটক সব ইসরাইলি পণবন্দীকে মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে দেয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে তারা দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রায় ২০ মিনিটের একটি আগে থেকে রেকর্ড করা ভিডিওতে তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামাস একটি ’বিস্তৃত চুক্তির’ প্রস্তাব দিয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় সব পণবন্দীকে একসাথে মুক্তি দেয়ার কথা বলেছিল হামাস। কিন্তু ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীরা তা নাকচ করে দেন।

তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে অপরাধী নেতানিয়াহু সরকারের পণবন্দীদের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। কারণ তারা সৈনিক।’

হামাসের মুখপাত্র আরো বলেন, হামাস এমন একটি চুক্তির পক্ষে, যা যুদ্ধের অবসান ঘটাবে, ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রবেশের নিশ্চয়তা দেবে।

ইসরাইল যদি কাতারে চলমান পরোক্ষ আলোচনা থেকে আবারো সরে আসে, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো আংশিক চুক্তির সম্ভাবনা থাকবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন আবু উবাইদা। এর মধ্যে ৬০ দিনের একটি প্রস্তাবিত চুক্তিও আছে, যার আওতায় ১০ জন পণবন্দীকে মুক্তি দেয়ার কথা।

এদিকে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আইনপ্রণেতাদের সাথে এক নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, গাজা থেকে শিগগিরই আরো ১০ জন পণবন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে। রিপাবলিকান এই নেতা কয়েক সপ্তাহ ধরেই দাবি করে আসছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তি আসন্ন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

মার্চের পর তার প্রথম ভিডিও বার্তায় আবু ওবাইদা আরো জানান, হামাস যোদ্ধারা ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত’ এবং গাজাজুড়ে ইসরাইলি সেনাদের হত্যা বা আটক করার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে যাবেন তারা।

সূত্র : আল জাজিরা