গাজা সিটিতে হামলা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র আভিচায় আদ্রাই এক এক্সবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এক্স বার্তায় তিনি বলেন, আমরা আর অপেক্ষা করছি না। গাজা সিটিতে প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছি। আমরা এখন গাজা সিটির উপকণ্ঠে আছি। সেখানে তীব্র লড়াই চলছে।
আভিচায় আদ্রাই বলেন, গাজা সিটিকে প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র ধরে এই অভিযান শুরু হয়েছে। এতোদিন সেখানে ত্রাণ প্রবেশের জন্য কৌশলগত যে বিরতি ছিল, সেটি আজ সকাল ১০টা থেকে স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে, ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) জানিয়েছিল যে গাজা গভর্নরেটে দুর্ভিক্ষ দেখা দিচ্ছে। এ অঞ্চলেই লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করে, যার মধ্যে গাজা সিটি অন্যতম।
জাতিসঙ্ঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ শুক্রবার সতর্ক করে, গাজা সিটির একটি পুষ্টি কেন্দ্রে কর্মীরা অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ইউনিসেফের মুখপাত্র টেস ইনগ্রাম আল জাজিরাকে বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে দুর্ভিক্ষ গাজা সিটিকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, অনেক অভিভাবক সম্পূর্ণ হতাশায় ভুগছেন। কারণ তাদের বিকল্প ফুরিয়ে গেছে।
পুষ্টি কেন্দ্রে শিশুদের উপরের বাহু পরিমাপ করে অপুষ্টির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের উচ্চ-শক্তির বিস্কুট দেয়া হয়। আর মারাত্মকভাবে অপুষ্ট শিশুরা ঘনীভূত থেরাপিউটিক খাবার পায়, যা কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের সুস্থ হতে সাহায্য করার জন্য তৈরি। তবে ইউনিসেফ জানায়, চাহিদা অনেক বেশি হলেও সরবরাহ সীমিত।
আইপিসি আরো সতর্ক করেছে, গাজার অন্যান্য এলাকাতেও শিগগির দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ, ইসরাইল ক্রমবর্ধমান ক্ষুধা সঙ্কটের মধ্যেও ভূখণ্ডজুড়ে মানবিক সহায়তার উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে চলেছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় অনাহার ও অপুষ্টিতে দুই শিশুসহ কমপক্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২২ জনে, যার মধ্যে ১২১ জন শিশু রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা



