শিগগরিই ইরানকে ‘শেষ করে দেয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়া সব জাহাজের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান প্রণালীতে মাইন থাকার অজুহাতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে এবং টোল আদায় করছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই ইরানকে ‘শেষ করে দেয়ার’ হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া তিনি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এখন থেকে হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ ও বের হওয়া জাহাজের ওপর নজরদারি করবে এবং ইরানকে টোল দেয়া জাহাজগুলো শক্তি প্রয়োগ করে আটকানো হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে ‘শেষ করে দেবে’ মার্কিন বাহিনী।

ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়া সব জাহাজের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান প্রণালীতে মাইন থাকার অজুহাতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে এবং টোল আদায় করছে।

তিনি বলেন, “ইরানকে টোল দেয়া জাহাজকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলতে দেয়া হবে না। যারা অবৈধভাবে টোল দেবে, তাদের জাহাজ আটকানো হবে।”

ট্রাম্প আরো দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের স্থাপন করা মাইন ধ্বংস করা হবে। এছাড়া কোনো ইরানি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র বা বেসামরিক জাহাজের দিকে গুলি চালালে কঠোর সামরিক জবাব দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তার পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির অবসান কীভাবে ঘটানো যায়, তা ইরান জানে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার কার্যক্রম অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হবে এবং এতে অন্যান্য দেশও যুক্ত হতে পারে। তিনি বলেন, ইরানকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের সুযোগ দেয়া হবে না এবং প্রয়োজন হলে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালায়। মূলত তখন থেকেই হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা