নেতানিয়াহু ঘোষিত ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ যেভাবে গঠিত হবে

এই প্রকল্পের মুখোমুখি হতে ব্যর্থ হওয়া মানে আরব দেশগুলোর সেই পথেই অগ্রসর হওয়া, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও তা শক্তিশালীকরণ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

মিসরের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত হুসেইন হারিদি সতর্ক করেছেন যে বর্তমান সময়ে এই অঞ্চল ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তার মতে, আরব দেশগুলোকে অবশ্যই ‘তৃতীয় নাকবা’ প্রতিরোধে জাতীয় অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। এই নাকবা শুধু ফিলিস্তিনিদের নয়, কিছু আরবকেও তাদের দেশ থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রাখেতে হবে।

আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হারিদি বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—যিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওয়ান্টেড-তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের মাধ্যমে চরম ডানপন্থীদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন। একইসাথে বিশ্বব্যাপী ইহুদিবাদী প্রকল্পের সাথে নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন।

এর আগে বুধবার ২৪ নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, তিনি বৃহত্তর ইসরাইলের ধারণায় বিশ্বাসী। এর অর্থ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিবেচনার বাইরে গিয়ে চলমান দুই বছরের যুদ্ধকে একটি আদর্শিক মাত্রা দেয়া।

হারিদি জোর দিয়ে বলেন, সকল আরব দেশ, বিশেষত যাদের সাথে ইসরাইলের স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি রয়েছে, তাদের অবশ্যই জাতীয় দায়িত্ব পালনের জন্য সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় জনগণকে এই সম্প্রসারণবাদী নীতির মূল্য দিতে হবে, যার পরিণতিতে পশ্চিমতীর, জর্ডান, গাজা উপত্যকা এবং মিসর ও লেবাননের কিছু অংশ দখল হতে পারে।

তিনি আরো ব্যাখ্যা করেন, এই প্রকল্পের মুখোমুখি হতে ব্যর্থ হওয়া মানে আরব দেশগুলোর সেই পথেই অগ্রসর হওয়া, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও তা শক্তিশালীকরণ।

সাবেক এই মিসরীয় কূটনীতিক নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘তৃতীয় নাকবা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা ১৯৪৮ সালের প্রথম নাকবা এবং গাজার দ্বিতীয় নাকবার পরবর্তী ধাপ। তার মতে, বৃহত্তর ইসরাইলের অর্থ হবে কিছু আরব দেশের জনগণকেও তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা, শুধু ফিলিস্তিনিদের নয়।

সূত্র : আল জাজিরা