অবশেষে একটি যুদ্ধবিরতির আওতায় সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধারা আলেপ্পো শহর থেকে সরে যেতে সম্মত হয়েছে। শহরটিতে কয়েক দিন ধরে সরকারি বাহিনীর সাথে তাদের তীব্র লড়াই চলছিল।
রোববার তারা এ সম্মতির কথা জানায়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানায়, কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত শেখ মাকসুদ এলাকায় তাদের অভিযান শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়, আত্মসমর্পণকারী কুর্দি যোদ্ধাদের বাসে করে উত্তরের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই আলেপ্পোর অন্য কুর্দি-অধিষ্ঠিত আশরাফিয়াহ দখলের ঘোষণা দিয়েছে।
সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরে কুর্দি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় তারা কার্যত স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন পরিচালনা করে আসছে।
নতুন সরকারের সাথে কুর্দিদের একীভূতকরণ নিয়ে আলোচনা স্থগিত হওয়ার পরই সর্বশেষ এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি, যার ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং আশরাফিয়েহ ও শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে শহীদ, আহত, আটকে পড়া বেসামরিক মানুষ ও যোদ্ধাদের উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে।’
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সানা জানায়, ‘আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে এসডিএফ সংগঠনের সদস্যদের বহনকারী শেষ দফার বাসগুলো উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার দিকে রওনা হয়েছে।’
প্রথমদিকে এসডিএফ দাবি করেছিল, তাদের যোদ্ধারা এলাকা ছাড়ছে না এবং বাসে করে লোক সরিয়ে নেয়াকে তারা বেসামরিকদের জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
এসডিএফের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আলেপ্পোতে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে হামলা ও লঙ্ঘন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই সিরীয় সরকার ও কুর্দি কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আলেপ্পোর এই লড়াই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটি। উভয়পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত ২১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আলেপ্পোর গভর্নর জানান, ১ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
উভয়পক্ষই মঙ্গলবার সংঘর্ষ শুরুর জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।
সূত্র : এএফপি



