ইসরাইলি বিমান হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. মারওয়ান সুলতান নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস-পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন। এই ঘটনাকে গাজার চিকিৎসাকর্মীদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধ’ উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ডা. সুলতানের চিকিৎসা জীবন ছিল সহানুভূতিশীলতায় পূর্ণ, যেখানে তিনি আমাদের জনগণের ওপর চলমান আগ্রাসনের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি আর দুঃসহ মুহূর্তে অটলতা ও আন্তরিকতার প্রতীক হয়ে ছিলেন।’
ডা. সুলতান যে ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ছিলেন, সেটিকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করেছিল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছিল, ‘বারবার ইসরাইলি হামলায় স্থায়ী অবকাঠামোগত ক্ষতির’ শিকার হয়েছে হাসপাতালটি।
জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার প্রশাসনিক এলাকায় এখন আর কোনো কার্যকর হাসপাতাল নেই।
এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গাজা সিটি এলাকায় হামাসেরে ‘একজন গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসীকে’ লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে এবং ‘জড়িত না এমন বেসামরিক নাগরিকদের’ ক্ষতি হওয়ার দাবি পর্যালোচনা করছে।
তবে ডা. সুলতানের মেয়ে লুবনা আল-সুলতান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘একটি এফ-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তার ঘর লক্ষ্য করে আঘাত করে। বাড়ির সব ঘর অক্ষত থাকলেও কেবল তার ঘরটিই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়েছে, আমার বাবা সেখানেই শহীদ হয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, তার বাবা ‘কোনো দল বা সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন না, যুদ্ধের পুরোটা সময় তিনি কেবল তার চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য চিন্তিত ছিলেন।’
অপরদিকে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে গাজাজুড়ে বুধবার দুপুরের আগে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৩৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় চালানো ইসরাইলি হামলায় একটি তাঁবুতে আশ্রয় নেয়া অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে এবং শিশুসহ আরো অনেকে আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাগুলো। আল-মাওয়াসি এলাকাটিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণা করেছিল।
জাতিসঙ্ঘ বলেছে, গাজার ৮০ শতাংশ এলাকা এখন হয় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন অথবা খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



