প্রশাসনের কঠোর অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি সরিয়ে আনার যে চেষ্টা ওয়াশিংটন বারবার করেছে,তা প্রতিবারই শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইলের চলমান সামরিক পদক্ষেপ বা বোমা হামলা দেশটির পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে স্তব্ধ করতে পারবে না বলে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাবেক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোগেরিনি। তিনি বলেন,পরমাণু জ্ঞান কেবল বোমা মেরে ধ্বংস করা সম্ভব নয় এবং ইরানিরা যে কোনো ধ্বংসস্তূপ থেকে আরো শক্তিশালীভাবে তাদের অবকাঠামো পুনরায় গড়ে তুলবে।
ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সম্প্রতি মার্কিন সাময়িকী 'ফরেন অ্যাফেয়ার্স'-এ সাহিল শাহের সাথে যৌথভাবে লেখা এক নিবন্ধে মোগেরিনি এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। এসব তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেও জানান তিনি।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি সরিয়ে আনার যে চেষ্টা ওয়াশিংটন বারবার করেছে, তা প্রতিবারই শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিনা উসকানিতে তেহরানে মার্কিন এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের যৌথ বোমা হামলা শুরু হওয়ার দিনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা এই হামলার মাধ্যমে নিশ্চিত করবেন। কিন্তু যুদ্ধের ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মূল চ্যালেঞ্জটি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সূত্র অনুযায়ী মোগেরিনি স্পষ্ট বলেন যে, এই যুদ্ধ ইরানের ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দিলেও দেশটির মৌলিক পরমাণু প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং দীর্ঘমেয়াদে তা পুনর্গঠনের সক্ষমতা মোটেও নষ্ট করতে পারেনি। বরং এই আক্রমণ ইরানকে নিজের সুরক্ষায় পরমাণু প্রতিরোধের বা ডিটারেন্সের দিকে আরো বেশি উৎসাহিত করতে পারে। নিবন্ধে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে ওয়াশিংটন কোনোভাবেই তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না; যদি তারা সত্যিই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র থেকে দূরে রাখতে চায়, তবে সামরিক পথের বদলে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানোই হবে একমাত্র বুদ্ধিমত্তার কাজ।
মোগেরিনিতার নিবন্ধে এই যুদ্ধকে 'অবৈধ ও বেপরোয়া' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, তেহরান তাৎক্ষণিক কোনো পরমাণু হুমকি তৈরি করছে এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও এই হামলা চালানো হয়েছে। কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতি হওয়ারপথেএকতরফা সামরিক আঘাত কেবল সাময়িকভাবে স্থাপনা ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু এর মাধ্যমে ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার একটি শিল্পোন্নত ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতাসম্পন্ন দেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান মুছে ফেলা অসম্ভব। উল্টো যুদ্ধের ফলে ইরানে কট্টরপন্থীদের প্রভাব বাড়বে এবং ভবিষ্যতে তারা মাটির আরো গভীরে ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সমর্থনে তাদের পরমাণু অবকাঠামো আবারো গড়ে তুলবে।
ইতোমধ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ইরান এখন আগের চেয়েও বেশি সংকল্প নিয়ে তাদের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে নেমেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।



