ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় বিমান ও নৌ হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর আশপাশ এবং ইরানের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এ হামলা চালানো হয়েছে। একই সাথে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর পুনরায় নৌ অবরোধও কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ২টা) অভিযানটি শুরু হয় এবং প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলে। এতে মার্কিন যুদ্ধবিমান, সশস্ত্র ড্রোন এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ অংশ নেয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়, অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌবাহিনীর সক্ষমতা এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে কতটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়েছে বা এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী।
সেন্টকম দাবি করেছে, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং বেসামরিক নাবিকদের জন্য সম্ভাব্য হুমকি সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে আরো দুর্বল করে দেয়া। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।
মার্কিন বাহিনী আরো জানিয়েছে, একই দিনে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাওয়া-আসা করা জাহাজের বিরুদ্ধে পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল ৪টা (গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা) থেকে এ অবরোধ কার্যকর হয়েছে বলে সেন্টকমের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র : আল জাজিরা



