গাজায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ৭০৬ স্বজনকে হত্যা করেছে ইসরাইল

ফ্রিডম কমিটির প্রধান মুহাম্মদ আল-লাহাম বলেছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হামলার ধরন প্রমাণ করে যে গাজায় স্বাধীন সাংবাদিকতা দমন করাই ইসরাইলের উদ্দেশ্য।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ৭০৬ জন স্বজন নিহত হয়েছে।

শনিবার রাতে ইউনিয়নের ফ্রিডম কমিটির প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করার লক্ষ্যে ইসরাইল তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলো যুদ্ধের অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি নয়, বরং সচেতন ও পরিকল্পিত কৌশল।

ইউনিয়ন বলেছে, ইসরাইলি সহিংসতা এখন আরো বিপজ্জনক ও নির্মম রূপ নিয়েছে। সাংবাদিকদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা ও স্বজনদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। যাতে সাংবাদিকতা অস্তিত্ব সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ফ্রিডম কমিটির প্রধান মুহাম্মদ আল-লাহাম বলেছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হামলার ধরন প্রমাণ করে যে গাজায় স্বাধীন সাংবাদিকতা দমন করাই ইসরাইলের উদ্দেশ্য। ইসরাইল সত্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক পরিসরে যুদ্ধ চালাচ্ছে। তারা ক্যামেরা এবং শিশুর মধ্যে বা কলম এবং বাড়ির মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি।

কমিটি বলেছে, ইসরাইলি বাহিনী ২০২৩ সালে সাংবাদিকদের ৪৩৬ জন স্বজনকে, ২০২৪ সালে ২০৩ জন এবং এই বছর কমপক্ষে ৬৭ জনকে হত্যা করেছে। এতে বলা হয়েছে, অনেক পরিবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার পরেও এবং তাঁবু ও অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় খোঁজার পরেও হামলার শিকার হয়েছে।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ মাসে গাজায় প্রায় ৩০০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। শিরিন.পিএস নামে একটি পর্যবেক্ষণ সাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এই সাইটটির নামকরণ করা হয়েছে আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহর নামে। তিনি ২০২২ সালে অধিকৃত পশ্চিমতীরে নিহত হন।

সূত্র : আল জাজিরা